সালমা বেগমের বিবাহের পর স্বামী বিদেশ থাকায় নিজ বাড়িতে অবস্থান করেন। ১ বছর পর যখন তিনি স্বামীর সাথে ঘর সংসার করেন তখন তিনি জানতে পারেন স্বামী, স্ত্রীর অধিকার আদায়ের উপর অক্ষম সালমার পরিবার বিষয়টি জানার পর তালাকের জন্য অনেক চেষ্টা করেন, তবে তার স্বামী এই বলে তালাক দেন না যে, যতক্ষণ না সে বিবাহে খরচ হওয়া সকল টাকা আদায় করবে ততক্ষণ সে তাকে তালাক দিবেন কিন্তু সালমার পরিবার গরীব হওয়ায় উক্ত টাকা আদায়ে উপর সক্ষম নয়। জানার বিষয় হলো এক্ষেত্রে সালমার জন্য কী করণীয়?
নিবেদক মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
শরয়ী দৃষ্টিতে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর উপর স্ত্রীর শারীরিক অধিকার আদায়ের অক্ষমতার দাবী করত; স্বামীর নিকট তালাক তলব করার ক্ষেত্রে স্বামী তালাক প্রদানে সম্মত না হলে স্ত্রী তার উক্ত দাবী আদালতে উপস্থাপন করবে। এক্ষেত্রে আদালত দাবী যাচাই-বাছাই পূর্বক স্ত্রীর দাবী সত্য প্রমাণিত হলে স্বামীকে চিকিৎসার জন্য এক বছর সময় বেঁধে দিবে, উক্ত সময়ের পর স্বামীর সক্ষমতা ফিরে আসলে স্ত্রীর দাবী প্রত্যাখ্যাত হবে। কিন্তু যদি স্বামীর সক্ষমতা ফিরে না আসেন এবং স্ত্রী তালাকের দাবীতে অটল থাকে তাহলে আদালত স্বামীকে তালাক প্রদানের নির্দেশ দিবে, তারপরও যদি স্বামী তালাক প্রদানে অস্বীকৃতি জানায় তাহলে আদালত উভয়ের মাঝে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দিবে এবং তা এক তালাকে বায়েনের বিধানভুক্ত হবে। এ পত্রিয়া অবলম্বন না করে নারী ব্যক্তিগতভাবে 'তালাক নিতে চাইলে অথবা উক্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতঃ তার দাবী সভ্য প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও তালাক চাইলে স্বামী তালাকের বিনিময়ে সর্বোচ্চ আদায়কৃত পরিমান মহরের টাকা চাইতে পারে। তার বেশি দাবী করা অন্যায়। অতএব, প্রশ্নোক্ত সালমা বেগম উপরোক্ত মূলনীতি অনুযায়ী তার কর্ম বিধান করবে।
(আল ফিকহুল হানাফী ২/২১৪ দারুল ঈমান, হিদায়া ৩/২৭৬ বুশরা, তাতারখানিয়া ৫/২২২ জাকারিয়া)
উত্তর প্রদানে
মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা