আসসালামু আলাইকুম ,২০২২ সালে বাসার কাউকে না জানিয়ে। ওয়ালী ছাড়া কাযী অফিস এ বিবাহ করা হয়। পরবর্তীতে সহবাস হয় নাহ এবং একসাথে থাকার সুজোগ হয় নাহ। ২০২৬ সালে মেয়ে বিয়ে বাতিল করতে চায় কারন ওয়ালি ছাড়া নাকি বিবাহ হয় নাহ যে বিয়ে বৈধ না অই বিয়ে বাতিল করাই ভালো এক্ষেত্রে তালাক এর বিষয়ে কোনো কথা হয় নেই সুধু বিবাহ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং মেয়ে মানসিকভবে এই বিষয়ে অসুস্থ অনুভব করে যে সে এমন অবৈধ বিয়ে করেছে। সেজন্য ছেলে কাজী অফিসের মাধ্যমে বিবাহ বাতিল এর সিন্ধান্ত নেয়। এক্ষেত্রে ছেলে জানত না তালাক হয়ে যাবে। পরবর্তীতে কাযি একটা নীল কাগজে ছেলে একটা signature করে মেয়ে ekta সাইন করে। নীল কাগজে কিছু লিখা ছিলো নাহ। এবং ঘটনাটির এখনো ৩ মাস হয়নি। ছেলে জানেও নাহ অইটা কি কাগজ। ছেলে মেয়েকে কখনই মুখে তালাক শব্দ উচ্চারণ করে নাই। ছেলে জানত অও না অই কাগজে সাইন করলে কি হবে পরে।ছেলের কখনই কোনো তালাকের মনভাব ছিলো নাহ। মনভাব ছিলো পরে আবার বৈধ বিবাহ করিবে মেয়েকে। মনে বা মুখে কখনই তালাক বা এ ধরনের শব্দ উচ্চারণ হয়নি। এক্ষেত্রে কি তালাক হয়ে গেসে? কোনোভাবে কি আর একসাথে থাকা যাবে মেয়ের সাথে? পরবর্তীতে Islam এর বিধান কিহ? এখন কি করতে হবে ছেলে মেয়ে একসাথে থাকার জন্য?
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
হানাফী মাযহাবের গ্রহণযোগ্য মতানুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কের নারী উপযুক্ত পাত্রকে বিবাহ করলে শুধু ওলীর অনুপস্থিতির কারণে নিকাহ বাতিল হয় না। তবে নিকাহর অন্যান্য শর্ত, বিশেষত শরয়ি সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুল হলে বিবাহ হয়ে যায়।
অতএব, ২০২২ সালের নিকাহর সময় যদি শরয়ি ইজাব-কবুলের সঙ্গে দুইজন পুরুষ সাক্ষী অথবা একজন পুরুষ ও দুইজন নারী সাক্ষী উপস্থিত থেকে নিকাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদের বিবাহ শুদ্ধ হয়েছে। অন্যথায় নয়।আর শুধু ওলী অনুপস্থিত থাকার কারণে সেই নিকাহকে অবৈধ বলা যাবে না। এবং সহবাস না হওয়াও নিকাহকে বাতিল করে না। আর আপনার বর্ণিত তালাকের নীল কাগজটিতে স্বাক্ষর করার কারণে কাগজপত্রে তালাকের বর্ণিত সংখ্যা অনুপাতে তালাক পতিত হবে। অর্থাৎ, এক অথবা দুই তালাক লেখা থাকলে পরবর্তীতে আপনারা নতুন করে পারিবারিকভাবে বিয়ে করে সংসার করতে পারবেন। আর তিন তালাক লেখা থাকলে একে অপরের জন্য চিরতরে হারাম হয়ে গেছেন। পুনরায় সংসার করার সুযোগ নেই।
উল্লেখ্য: নীল কাগজে কী লেখা হয়েছিল এবং তাতে এক, দুই নাকি তিন তালাকের উল্লেখ ছিল তা বর্তমানে নিশ্চিতভাবে জানা
যাচ্ছে না। তাই উক্ত কাগজটি যাচাই করে তালাকের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত
নতুন করে বিবাহ বা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে বসবাসের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া
উচিত নয়। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে হালালভাবে জীবনযাপন করার তাওফীক দান করুন।
الادلةالشرعية
سورة البقرة (٢٣٠)
فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره
قواعد الفقه ٥٧
اكبر الراي بمنزله اليقين فيما لا يمكن الوقوف على حقيقته بمنزلة الحقيقة
الفتاوى الهندية ١/٤٧٠
اذا
طلق الرجل امراته تطليقة رجعية وتطليقتين فله ان يراجعها في عدتها رضيت بذلك او لم
ترض
السنن الكبرى للبيهقي (١٤٤٩٢)
قال حسن : لولا اني سمعت ابي يحدث عن جدي النبي صلى الله عليه وسلم : من طلق امراته ثلاثا لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره لراجعته
الهداية (٢/١٣٢)
وان كان الطلاق ثلاثا في الحرة او ثنتين في الامة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقهاله من بعد حتى تنكح زوجا غيره
و الله اعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে
মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা