ফিকহ তালাক

কাবিন নামার ১৮ নম্বর ধারায় শুধু ‘হ্যাঁ’ লেখা থাকলে স্ত্রী কয় তালাক গ্রহণ করতে পারবেন?

প্রশ্ন : স্বামী যদি স্ত্রীকে প্রচলিত কাবিননামার ১৮ নং ধারায় তালাকের অধিকার দিয়ে থাকে কিন্তু  নিজের উপর কত তালাক গ্রহণ করতে পারবে সেই  সংখ্যা উল্লেখ না করে তাহলে স্ত্রী তালাক কয়টি তালাকের মালিক হবে।

 

উত্তর : প্রচলিত কাবিননামার  ১৮ নং ধারায় স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের সংখ্যা  উল্লেখ না করে বরং সাধারণভাবে তালাকের অধিকার দিয়ে দেয় যেমন ১৮ নং ধারায় যদি শুধু হ্যা লেখা থাকে অথবা তালাক গ্রহনের অধিকার দেওয়া হলো এ ধরনের কথা উল্লেখ করা হয় অথবা কোন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় কিন্তু তালাকের সংখ্যা উল্লেখ করা না থাকে   তাহলে এ সকল ক্ষেত্রে স্ত্রী নিজের উপর এক তালাকে রাজয়ী গ্রহণ করিতে পারবে। এক্ষেত্রে স্ত্রী তিন তালাক গ্রহণ করলেও এক তালাক গ্রহণযোগ্য হবে এবং এটি রাজয়ী হিসেবে গণ্য হবে বিধায় স্বামী চাইলে ইদ্দতের ভিতর মৌখিক অথবা কর্মগতভাবে স্ত্রীকে  ফিরিয়ে নিতে পারবে অথবা ইদ্দতের পর উভয়ের সন্তুষ্টিতে সাক্ষীর উপস্থিতিতে  নতুন মোহরের মাধ্যমে পুনরায় উভয়জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করতে পারবে।

আল-বাহরুর রায়িক গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে একথা বলা হয়েছে যে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যা যদি উল্লেখ না করে তাহলে স্ত্রী এক তালাকে রাজয়ীর মালিক হবে।  নিম্নে সেই বক্তব্য উল্লেখ করা হলো

البحر الرائق: (٣/٣٣٦ دار الكتاب الإسلامي)

وقيد باقتصاره على التخيير المطلق لأنه لو قال لها اختاري الطلاق فقالت اخترت الطلاق فهي واحدة رجعية لأنه لما صرح بالطلاق فقد خيرها بين نفسها بتطليقة واحدة رجعية وبين ترك التطليقة وكذا في قوله: أمرك بيدك كذا في البدائع وهو مستفاد من قول المصنف آخر الباب اختاري تطليقة أو أمرك بيدك في تطليقة،

 

এখানে লেখক শুধু নিঃশর্তভাবে স্ত্রীকে  তালাকের অধিকার দেওয়ার  কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ  স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে তুমি তালাক গ্রহণ করবে কি না ? তা তুমি নিজেই ঠিক করো এরপর স্ত্রী বলে ,আমি তালাক গ্রহণ করলাম, তাহলে এক তালাকে রাজয়ী সংঘটিত হবে।এর কারণ হলো  স্বামী যখন সরাসরি তালাকের কথা উল্লেখ করেছে তখন সে  স্ত্রীকে মূলত দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন:১. এক তালাক গ্রহণ করা অথবা২. তালাক গ্রহণ না করে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল রাখা।

অনুরূপভাবে স্বামী যদি বলেন  তোমার ব্যাপার তোমার হাতে (أمرك بيدك) তাহলেও একই হুকুম প্রযোজ্য। এ বিষয়টি বাদায়েউস সানায়েতেও উল্লেখ করা হয়েছে।আর গ্রন্থকারের শেষ অধ্যায়ে বলা ,এক তালাক বেছে নাও ,(اختاري تطليقة) অথবা ,তোমার ব্যাপার এক তালাকের ক্ষেত্রে তোমার হাতে, أمرك بيدك في تطليقةএই বক্তব্য থেকেও একই বিষয় স্পষ্ট হয়।

 

এমনিভাবে বাদায়িউস সানায়ে গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে  :যার সার সংক্ষেপ হলো সংখ্যা উল্লেখ ছাড়া  স্বামী স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের  অধিকার দিলে  স্ত্রী এক তালাকের অধিকার পাবে নিম্নে বাদায়িউস সানায়ে এর বক্তব্য উল্লেখ করা হলো :

بدائل الصنايع (٦١٢١/دار الكتب العلمية)

ولو قال لها: أنت طالق إذا شئت أو إذا ما شئت أو متى شئت أو متى ما شئت فلها أن تطلق نفسها في أي وقت شاءت في المجلس أو بعده وبعد القيام عنه لما مر، وليس لها أن تطلق نفسها إلا واحدة؛ لأنه ليس في هذه الألفاظ ما يدل على التكرار على ما مر."

 

স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে  তুমি যখন চাইবে তখনই তুমি তালাকপ্রাপ্তা অথবা তুমি যদি চাও  তাহলে তালাকপ্রাপ্তা  কিংবা তুমি যখনই চাইবে  তখন তালাকপ্রাপ্তা অথবা তুমি যখনই চাইবে  তখনই তালাকপ্রাপ্তা তাহলে স্ত্রী যে কোনো সময় নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে। সে স্বামী স্ত্রী একই মজলিসে থাকা অবস্থায়ও নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে  আবার মজলিস শেষ হয়ে যাওয়ার পর কিংবা সেখান থেকে উঠে যাওয়ার পরও তা করতে পারবে। কারণ এ বিষয়ে পূর্বে যে নিয়ম আলোচনা করা হয়েছে এখানেও সেটিই প্রযোজ্য।তবে স্ত্রী শুধু এক তালাকই নিজের ওপর কার্যকর করতে পারবে। একাধিকবার তালাক কার্যকর করার অধিকার তার থাকবে না। কারণ উল্লিখিত বাক্যগুলোর মধ্যে এমন কোনো শব্দ নেই যা বারবার তালাক কার্যকর করার অধিকারকে বোঝায়।

এমনিভাবে পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া বানুরি টাউন এর ফাতাওয়া বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে একথা উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বামী যদি তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের সংখ্যা উল্লেখ না করে তাহলে স্ত্রী এক তালাকে রাজয়ীর মালিক হবে। নিম্নে সেই ফতোয়া যুক্ত করা হলো :

سوال

زید اور زہرہ کی یورپ میں شادی ہوئی اور نکاح نامہ میں شق ہونے کی وجہ سے زید نے زہرہ کو حق طلاق دے دیا ۔ اب زید پاکستان آگیا ہے اور زہرہ کو بھی پاکستان منتقل ہونے کو کہہ رہا ہے لیکن زہرہ اور اس کے والدین اس بات پر راضی  نہیں ، اور کافی عرصہ گزر جانے کی وجہ سے اب زید سے طلاق کا مطالبہ کر رہے ہیں جس پر زید راضی نہیں ہو رہا ۔ پوچھنا یہ تھا کہ زہرہ  کو حاصل شدہ حقِ طلاق کو استعمال کرتے ہوئے کیا زہرہ اپنے اوپر طلاق واقع کر کے عدت پوری کرنے کے بعد یورپ میں ہی کسی اور آدمی سے نکاح کر سکتی ہے ؟

جواب

شوہر اگر بیوی کواپنے اوپر طلاق واقع کرنے کا اختیار دے دے تو بیوی  کو اپنے اوپر طلاق واقع کرنے کااختیار  حاصل ہوجاتا ہے، اور بیوی اپنے اوپر طلاق واقع کرکے عدت گزار کر دوسری جگہ نکاح کرنا چاہے تو کرسکتی ہے۔

لیکن شوہر نے کس قسم کی طلاق کا اختیار دیا تھا ؟ اس کے لیے کیا الفاظ استعمال  کیے تھے؟ آیا کسی شرط کے ساتھ اختیار دیا یا بغیر شرط کے؟ یہ سب باتیں متعلقہ مسئلہ کے حکم میں بڑی اہمیت کی حامل ہیں،  ان سے مسئلہ کے حکم میں تبدیلی بھی آتی ہے، لہذا آپ  ان باتوں کی وضاحت کرکے دوبارہ مسئلہ کا حکم معلوم کرلیجیے۔

مختصراً یہ کہ اگر صرف طلاق کا حق دیا ہے اور طلاق کی تعداد اور کسی صفت کاذکر نہیں ہے تو بیوی کو اپنے اوپر صرف ایک طلاق رجعی واقع کرنے کا حق ہوگا  اور عدت کے اندر شوہر چاہے تو رجوع کرسکے گا۔فقط واللہ اعلم

 

যায়েদ ও জোহরার ইউরোপে বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামায় একটি শর্ত থাকার কারণে যায়েদ তার স্ত্রী জোহরাকে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার (তাফওয়ীযে তালাক) দিয়ে দেয়।পরবর্তীতে যায়েদ পাকিস্তানে চলে আসে এবং জোহরাকেও পাকিস্তানে চলে আসতে বলে। কিন্তু জোহরা ও তার বাবা-মা এতে রাজি নন। এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তারা যায়েদের কাছে তালাক দাবি করেন। কিন্তু যায়েদ তালাক দিতে রাজি হচ্ছে না।

প্রশ্ন হলো  জোহরাকে যেহেতু নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার দেওয়া হয়েছে তাই সে কি সেই অধিকার ব্যবহার করে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে? এরপর ইদ্দত পূর্ণ করে ইউরোপেই অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে কি?

 

উত্তর :স্বামী যদি স্ত্রীকে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার দিয়ে দেয়  তাহলে স্ত্রী সেই অধিকার প্রয়োগ করে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে। এরপর ইদ্দত পূর্ণ করার পর চাইলে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়েও করতে পারবে।

তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বামী স্ত্রীকে কী ধরনের তালাকের অধিকার দিয়েছিল এবং ঠিক কী শব্দে সেই অধিকার দিয়েছিল? সে কি কোনো শর্তের সঙ্গে এই অধিকার দিয়েছিল নাকি কোনো শর্ত ছাড়াই দিয়েছিল? এসব বিষয়ের ওপর মাসআলার হুকুম নির্ভর করে এবং এগুলোর কারণে হুকুমের পরিবর্তনও হতে পারে। তাই এসব বিষয় স্পষ্ট করে পুনরায় মাসআলার হুকুম জেনে নেওয়া উচিত।

সংক্ষেপে: যদি স্বামী শুধু স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে থাকে এবং তালাকের সংখ্যা বা কোনো বিশেষ ধরন উল্লেখ না করে থাকে তাহলে স্ত্রী নিজের ওপর শুধু এক তালাকে রাজয়ী কার্যকর করতে পারবে। এরপর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী চাইলে তাকে রুজু করতে পারবে।(ফতোয়া নাম্বার  144001200295)ফাতাওয়া বিভাগ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া বানুরিটাউন পাকিস্তান)

 

এমনিভাবে বানুরি টাউনের  ফাতাওয়া বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়াতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বামী কর্তৃক  কাবিন নামার তাফবীজে তালাকের ধারায়  শুধু হ্যা সূচক উত্তর লিখলে ও স্ত্রী মাত্র এক  তালাকে রাজয়ী  গ্রহনের অধিকার পাবে।

নিম্নে ফতোয়াটি উল্লেখ করা হলো

 

سوال

 شوہر نے بیوی کو نکاح کے وقت  کسی شرط کے بیان کیے بغیر   طلاق کا حق تفویض کیا تھا،  جیسا کہ منسلکہ طلاق نامہ میں درج ہے کہ "آیا شوہر نے طلاق کا حق بیوی کو تفویض  کردیا ہے: جی ہاں" جو کہ بیوی نے چھ سال بعد تحریری طور پر  اپنے اوپر  تین طلاقیں واقع کرکے   تفویض کا حق استعمال کیا ہے۔بیوی کی تحریر درج ذیل ہے:

 

"having exercised the delegated powers of divorce i.e. Talaq-e-Tafweez, in presence of witnesses cited herein below I, hereby declare DIVORCE - DIVORCE -DIVORCE thrice irrevocably upon myself."

دوران عدت شوہر اور بیوی کے درمیان ازدواجی تعلق قائم ہوا ۔ اب عدت کے ختم ہونے کے بعد بیوی  کو پتا چلا کہ وہ حاملہ ہے۔ جب یہ بات بیوی نے اپنے شوہر کو بتائی تو شوہر نے اس بچہ کو قبول کرنے سے منع کیا،  اور بیوی کو کہا کہ اس حمل کو ضایع کردو۔ حمل کی مدت ایک مہینے سے کم بتائی جا رہی ہے ۔ مذکورہ صورت حال میں درج  ذیل سوالات کا حل  مطلوب ہے ۔

1۔ کیا طلاق واقع ہو گئی ؟

2۔ تین طلاق کے بعد عدت میں ازدواجی تعلق کی کیا حیثیت ہے؟

3۔ اس حمل کے بارے میں کیا حکم ہے ؟ کیا اسکو ضایع کیا جاسکتا ہے؟

4۔ حمل کو باقی رکھا  جاتا ہے ، تو اس دوران طلاق کا کیا حکم ہے؟

5۔  اس  بچہ کی ولدیت بارے میں کیا حکم ہے؟ 

5۔پیدائش  کے بعد بچہ کے نفقہ کے بارے میں کیا حکم ہے؟

جواب

1۔ نکاح کے موقع پر  دولہن کی جانب سے تفویض طلاق کی شرط  پر اگر نکاح  ہوا ہے، اور دولہا نے مذکورہ شرط کو قبول کیا ہو، تو اس صورت میں نکاح کے بعد بیوی جب چاہے اپنے اوپر طلاق واقع کرنے کی شرعا حقدار ہوتی ہے، تاہم مطلق تفویض کی صورت میں بیوی کو صرف ایک طلاق واقع کرنے کا  شرعا اختیار ہوتا ہے، ایک سے زائد طلاق واقع کرنے کی صورت میں زائد طلاق شرعا واقع نہیں ہوتیں،  لہذا صورت مسئولہ  میں نکاح کے  چھ سال بعد بیوی نے تحریری طور پر جب اپنے اور  سوال میں درج  جملے  سے طلاق واقع کی  ، تو اس سے بیوی پر صرف ایک طلاق رجعی واقع ہوگی، البتہ دوسری اور تیسری طلاقیں واقع نہیں ہوں گی،اور دوران عدت چونکہ میاں بیوی کے درمیان ازدواجی تعلق قائم ہوتا رہا، جس کی وجہ سے  رجوع ہوگیا ہے،  اور نکاح بدستور قائم ہے،  مذکورہ خاتون کے لیے کسی اور شخص سے نکاح کرنا جائز نہیں ہے،  اور آئندہ کے لیے شوہر کے پاس صرف دو طلاق کا حق ہوگا۔

2۔ مسئولہ صورت میں  چونکہ بیوی پر ایک   طلاق  رجعی واقع ہوئی تھی، جس کی بناء پر شوہر کے لیے عدت کے دوران بیوی سے رجوع کرنا جائز تھا، لہذا  عدت کے دوران جو ازدواجی تعلق قائم ہوا،  وہ جائز تھا۔

3۔ مذکورہ حمل حلال ہے، لہذا اسے ضائع کرنا جائز نہیں ہے۔

4۔  مسئولہ صورت میں  حمل گرانا جائز نہیں ہے، بیوی نے جو اپنے اوپر تین طلاقیں واقع کی تھیں، ان میں سے صرف  ایک طلاق واقع ہوئی تھی، بقیہ دو طلاقیں شرعا معتبر  نہیں ہوں گی، مذکورہ ازدواجی تعلق کی وجہ سے جو حمل ہوا ہے، وہ جائز ہے۔

5۔ پیدا ہونے والا بچہ کا   نسب مذکورہ شخص سے ثابت  ہوگا۔

6۔ پیدائش  کے بعد بچہ کا نفقہ والد ( مذکورہ شخص) پر لازم ہوگا۔

 

প্রশ্ন : বিবাহের সময় স্বামী স্ত্রীকে কোনো শর্ত উল্লেখ না করেই তালাকের অধিকার প্রদান করেন। সংযুক্ত তালাকনামায় এভাবে উল্লেখ রয়েছে  স্বামী কি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করেছেন?  জবাবে হ্যাঁ বলে তালাকের অধিকার দেয়া হয়েছে  বিবাহের ছয় বছর পর স্ত্রী ঐ ক্ষমতা প্রয়োগ করে লিখিতভাবে নিজের ওপর তিন তালাক ঘোষণা করেন। তার লিখিত বক্তব্য ছিল:

আমি আমাকে অর্পিত তালাকের ক্ষমতা তথা তালাকে তাফওয়ীয প্রয়োগ করে  নিম্নে উল্লেখিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নিজের ওপর পরপর তিন তালাক ঘোষণা করছি।এরপর তালাকের ইদ্দত চলাকালীন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রী জানতে পারেন যে তিনি গর্ভবতী। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সন্তানটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং স্ত্রীকে গর্ভপাত করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে গর্ভের বয়স এক মাসেরও কম বলে জানা যাচ্ছে।

এ অবস্থায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর শরয়ি সমাধান জানতে চাওয়া হয়েছে

১. তালাক কি সংঘটিত হয়েছে?২. তিন তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের হুকুম কী?৩. গর্ভের সন্তানের ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম কী? গর্ভপাত করা যাবে কি?৪. গর্ভ রাখা হলে এ অবস্থায় তালাকের কী হুকুম হবে?৫. জন্মগ্রহণকারী সন্তানের পিতৃত্ব কার সঙ্গে সাব্যস্ত হবে?৬. সন্তান জন্মের পর তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে?

উত্তর :   ১. তালাক সংঘটিত হওয়ার হুকুম।বিবাহের সময় যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার প্রদানের শর্তে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং স্বামী সেই শর্ত গ্রহণ করে থাকেন  তাহলে বিবাহের পর স্ত্রী যখন ইচ্ছা অর্পিত সেই ক্ষমতা অনুযায়ী নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারেন।

তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনো শর্ত বা সীমা নির্ধারণ না করে সাধারণভাবে তালাকের অধিকার প্রদান করেন তাহলে স্ত্রী শরিয়ত অনুযায়ী নিজের ওপর শুধু একটি তালাক কার্যকর করার অধিকার রাখেন। তিনি একাধিক তালাক দিলে অতিরিক্ত তালাকগুলো শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয় না।অতএব প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় বিবাহের ছয় বছর পর স্ত্রী লিখিতভাবে নিজের ওপর তিন তালাক ঘোষণা করলেও তার দ্বারা শুধু একটি তালাকে রাজয়ী সংঘটিত হয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক সংঘটিত হয়নি।

আর যেহেতু ঐ তালাকের ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তাই এর মাধ্যমে রুজু হয়ে গেছে এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় বহাল হয়ে গেছে।

      সুতরাং ঐ নারী অন্য কোনো পুরুষকে বিবাহ করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তার স্বামীর হাতে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।

২. ইদ্দতের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের হুকুম : প্রশ্নে উল্লিখিত অবস্থায় যেহেতু স্ত্রীর ওপর মাত্র একটি তালাকে রাজয়ী সংঘটিত হয়েছিল  তাই তার ইদ্দতের মধ্যে স্বামীর জন্য স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ ছিল। আর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে রুজুও সংঘটিত হয়ে গেছে।অতএব  ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর যে দাম্পত্য সম্পর্ক হয়েছে তা জায়েজ ছিল এবং এর মাধ্যমে রুজু হয়ে গেছে।

৩. গর্ভের সন্তানের হুকুম:  ইদ্দতের মধ্যে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে যে গর্ভধারণ হয়েছে তা বৈধ গর্ভ। অতএব এই গর্ভ নষ্ট করা বা গর্ভপাত করা জায়েজ নয়।গর্ভের বয়স এক মাসেরও কম হলেও প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে তা নষ্ট করার অনুমতি নেই।

৪. গর্ভ রেখে দিলে তালাকের হুকুম : এই গর্ভপাত করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়। কারণ স্ত্রী নিজের ওপর যে তিন তালাক ঘোষণা করেছিলেন তার মধ্যে শুধু একটি তালাক কার্যকর হয়েছে এবং বাকি দুটি তালাক শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয়নি।

পরবর্তীতে ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে রুজু হয়ে গেছে। ফলে তাদের বিবাহ বহাল রয়েছে। সেই বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমেই যেহেতু গর্ভধারণ হয়েছে তাই গর্ভটি বৈধ এবং তা নষ্ট করা যাবে না।

৫. সন্তানের পিতৃত্বের হুকুম: উক্ত গর্ভ থেকে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তার নসব ও পিতৃত্ব ওই স্বামীর সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে।

স্বামী সন্তানটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেও এর দ্বারা শরিয়তসম্মতভাবে তার পিতৃত্ব বাতিল হবে না।

৬. সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব : সন্তান জন্মগ্রহণের পর তার ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়িত্ব তার পিতা  অর্থাৎ উক্ত স্বামীর ওপরই বর্তাবে।

( ফতোয়া নাম্বার 144603102087 )ফাতাওয়া বিভাগ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া বানুরী টাউন পাকিস্তান)

উত্তর প্রদানে
মুফতি মুঈনুল ইসলাম  সিলেটি

মুফতিফাতাওয়া ও মাসায়েল 

মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মাহাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা

 


📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

২২ আগস্ট ২০২৬