ফিকহ বিবাহ-শাদি

বিয়ের মোহর কুরআন শিখানো!


প্রশ্ন: বিয়েতে অর্থ-সম্পদ দ্বারা মোহর দেয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও তা না দিয়ে কেবল কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা যাবে কি? অথবা আর্থিক মোহর দেয়ার পাশাপাশি কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে ধরা জায়েজ আছে কি?


الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

 

উত্তর: মোহর স্ত্রীর অধিকার বা পাওনা। এটি আল্লাহর নির্দেশ। তাআলা বলেন,

 

وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا

আর তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহর দিয়ে দাও খুশি মনে। তারা যদি খুশি হয়ে তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয় তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ কর।” [সূরা নিসা: ৪]

💠কী জিনিস দ্বারা মোহর দিতে হবে? এ ব্যাপারে ফকিহগণ বলেছেন যে, মোহর হওয়ার জন্য শর্ত হল,  - সেটি হয় এমন জিনিস হতে হবে যার অর্থমূল্য রয়েছে। যেমন: টাকা-পয়সা, স্বর্ণ-রৌপ্যের অলংকার, জায়গা-জমি,আসবাবপত্র ইত্যাদি। - অথবা এমন কোন কাজ বা সেবা হতে হবে যার বিনিময় মূল্য রয়েছে। যেমন কুরআন শিখানো। বিয়ের পূর্বে এ মর্মে চুক্তি হবে যে, মোহর হিসেবে স্বামী তার স্ত্রীকে কুরআন শেখাবে। অথবা এ মর্মে চুক্তি হবে যে, সে তাকে পড়ালেখা শেখাবে অথবা স্বামী স্ত্রীর পক্ষ থেকে বিশেষ কোন কর্ম সম্পাদন করবে। বিয়ের সময় যদি এ ধরণের কাজ বা সেবা দানের শর্তে উভয়পক্ষ সম্মত হয় তাহলেও তা মোহর হিসেবে পরিগণিত হবে। কারণ এগুলোর বিনিময় মূল্য রয়েছে।   সাহাবীকে বললেন,

 

اذْهَبْ فَالْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ

যাও, তালাশ কর, একটি লোহার আংটি হলেও। লোকটি চলে গেল এবং খুঁজে দেখল। এরপর এসে বলল,আমি কিছুই পেলাম না; এমনকি একটি লোহার আংটিও না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,তোমার কি কিছু কুরআন জানা আছে? সে বলল, অমুক অমুক সূরা আমার জানা আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তমার নিকট যে পরিমাণ কুরআন আছে তার বিনিময়ে এ মহিলাকে তোমার সাথে বিয়ে দিলাম।” (সহীহ বাখারী, অধ্যায়:পোশাক, অনুচ্ছেদ: লোহার আংটি, হা/৫৫৩৩, সহীহ মুসলিও বর্ণিত হয়েছে)  উক্ত হাদীস থেকে ইমাম শাফেঈ রহ. এবং ইমাম আহমদ রহ. (একটি বর্ণনা মোতাবেক) কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করেছেন।

বরং কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করার ব্যাপারে অধিকাংশ আলেম একমত।

কিন্তু যদি শুধু কুরআনের সূরা বা আয়াতকে মোহর ধরা হয় অর্থাৎ বর নিজে নিজে কুরআন পড়বে অথবা কুরআন মুখস্থ করবে-এটাই মোহর। তবে এ বিষয়ে সঠিক কথা হল, এটি মোহর হিসেবে গণ্য হবে না। বরং কুরআন তিলাওয়াত শিখানো বা বিশেষ কোন কাজ করে দেয়ার শর্ত থাকলে তা মোহর হিসেবে পরিগণিত হতে পারে।

💠অর্থ-সম্পদ থাকার পরও শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা বৈধ নয়:

অর্থ-সম্পদ থাকার পরও শুধু কুরআন শিখানোকে মোহর হিসেবে গণ্য করা বৈধ হবে না। কেননা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি লোহার আংটি হলেও খোঁজার কথা বলেছেন।

সুতরাং আর্থিক মোহর দেয়ার সামর্থ্য থাকলে তাই প্রদান করতে হবে। অর্থ সম্পদ না থাকলে তখন তার জন্য উক্ত বিকল্প পথ। কিন্তু অর্থ-সম্পদ একেবারে না দিয়ে শুধু কুরআন শিখানোকেই মোহর হিসেবে ধার্য করা বৈধ হবে না।  তবে যদি আর্থিক মোহরের পাশাপাশি এটাও বলা হয় যে,স্বামী স্ত্রীকে কুরআন শেখাবে অর্থাৎ আর্থিক মোহর তো থাকলই পাশাপাশি কুরআনও শিখাতে হতে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নেই। এটিও মোহর হিসেবে পরিগণিত হবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের সকলকে সঠিকভাবে দ্বীন জানার ও মানার তৌফিক দান করুন। আমীন।


الأدلة الشرعية

١. القرآن الكريم – سورة النساء (٤)

    ﴿وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً ۚ فَإِن طِبْنَ لَكُمْ عَن شَيْءٍ مِّنْهُ نَفْسًا فَكُلُوهُ هَنِيئًا مَّرِيئًا﴾

٢. صحيح البخاري (كتاب النكاح، رقم: ٥١٤٩)

    عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ رضي الله عنه... فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ:اذْهَبْ فَالْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ... فَقَالَ: «هَلْ مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ شَيْءٌ؟»... قَالَ: قَدْ مَلَّكْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ

٣. صحيح مسلم (كتاب النكاح، رقم: ١٤٢٥)

عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ رضي الله عنه... قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ: اذْهَبْ فَالْتَمِسْ وَلَوْ خَاتَمًا مِنْ حَدِيدٍ... ثُمَّ قَالَ:زَوَّجْتُكَهَا بِمَا مَعَكَ مِنَ الْقُرْآنِ

٤. بدائع الصنائع – الإمام الكاساني (٢/٢٧٩)

    وَأَمَّا الَّذِي يَصْلُحُ أَنْ يَكُونَ مَهْرًا فَهُوَ كُلُّ مَا جَازَ أَنْ يَكُونَ ثَمَنًا فِي الْبُيُوعِ أَوْ أُجْرَةً فِي الْإِجَارَاتِ.

٥. رد المحتار على الدر المختار – ابن عابدين (٣/١٠١)

   كُلُّ مَا جَازَ أَنْ يَكُونَ ثَمَنًا أَوْ أُجْرَةً جَازَ أَنْ يَكُونَ مَهْرًا.

٦. المغني – ابن قدامة (٧/١٧٣)

   وَيَجُوزُ أَنْ يَكُونَ الْمَهْرُ مَنْفَعَةً مُبَاحَةً، كَتَعْلِيمِ الْقُرْآنِ، وَهُوَ قَوْلُ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ.

 

মুফতী আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

মুফতী ,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

মুফতিমাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদদক্ষিণখানঢাকা

 

 

📋 ফতোয়া পর্যালোচনা ও অনুমোদন:

অনুমোদিত ফতোয়া দ্বারা: fatwamasail.com ফতোয়া board ও উপদেষ্টা প্যানেল

* এই সমাধানটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী মুফতি শরীফ মালিক (প্রধান মুফতি) এবং ফতোয়া পর্যালোচনা প্যানেল দ্বারা কিতাবের সুস্পষ্ট রেফারেন্সসহ সম্পাদিত ও অনুমোদিত।

০৭ জুলাই ২০২৬