কাপড়ের মোজার উপর মাসাহ করা কি বৈধ?
প্রশ্ন: আমাদের দেশের কাপরের তৈরী মোজার উপর মাসাহ করে নামায পড়া যাবে কি-না ? মোজার উপর মাসাহ করার নিয়ম কি?
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক আমাদের দেশে প্রচলিত সাধারণ কাপড়ের তৈরি মোজার উপর মাসাহ করা জায়িয নয়। তবে চামড়ার মোজা (খুফ) অথবা এমন মোটা ও মজবুত মোজা, যা পরে জুতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যায়, তার উপর মাসাহ করা জায়িয।
মাসাহ বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো—উযু বা ফরজ গোসলের পর পূর্ণ পবিত্র অবস্থায় মোজা পরিধান করতে হবে। এরপর মুকিম ব্যক্তি একদিন এক রাত (২৪ ঘণ্টা) এবং মুসাফির ব্যক্তি তিন দিন তিন রাত (৭২ ঘণ্টা) পর্যন্ত উক্ত মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে।
যদি নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পূর্বেই মোজা খুলে ফেলে, তাহলে পূর্বের মাসাহের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। পরবর্তীতে পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করে নতুনভাবে মোজা পরিধান করলে তখন থেকে নতুন মেয়াদ গণনা হবে।
মাসাহ করার পদ্ধতি হলো—হাত ভিজিয়ে আঙুলগুলো মোজার উপরের সামনের অংশে রেখে পায়ের পাতা বরাবর একবার টেনে নিবে। ডান পায়ে ডান হাত দ্বারা এবং বাম পায়ে বাম হাত দ্বারা মাসাহ করা সুন্নত।
আরো পড়ুন: স্ত্রীর লজ্জাস্থানের ভেতর স্বামীর আঙুল প্রবেশ করানো কি জায়েজ?
আরো পড়ুন: হিল্লা বিয়ের পর প্রথম স্বামী কি হালাল হয়?
الأدلة الشرعية
١. سورة المائدة، الآية: ٦
﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ﴾
٢. صحيح البخاري، رقم الحديث: ٢٠٦
عَنْ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ رضي الله عنه قَالَ: كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فِي سَفَرٍ، فَأَهْوَيْتُ لِأَنْزِعَ خُفَّيْهِ، فَقَالَ: دَعْهُمَا؛ فَإِنِّي أَدْخَلْتُهُمَا طَاهِرَتَيْنِ، فَمَسَحَ عَلَيْهِمَا
٣. صحيح مسلم، رقم الحديث: ٢٧٦
عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيهِنَّ لِلْمُسَافِرِ، وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ
٤. سنن أبي داود، رقم الحديث: ١٦٢
عَنْ عَلِيٍّ رضي الله عنه قَالَ: لَوْ كَانَ الدِّينُ بِالرَّأْيِ لَكَانَ أَسْفَلُ الْخُفِّ أَوْلَى بِالْمَسْحِ مِنْ أَعْلَاهُ، وَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَمْسَحُ عَلَى ظَاهِرِ خُفَّيْهِ
٥. الهداية، ١/٣٤
وَلَا يَجُوزُ الْمَسْحُ إِلَّا عَلَى خُفٍّ يُمْكِنُ تَتَابُعُ الْمَشْيِ فِيهِ سَفَرًا مِنْ غَيْرِ نَعْلٍ
٦. الفتاوى الهندية، ١/٣٢
وَشَرْطُ جَوَازِ الْمَسْحِ أَنْ يَكُونَ الْخُفُّ ثَخِينًا صَفِيقًا يَسْتَمْسِكُ عَلَى السَّاقِ وَيُمْكِنُ الْمَشْيُ فِيهِ مِنْ غَيْرِ نَعْلٍ
٧. رد المحتار على الدر المختار، ١/٢٧٧
وَلَا يَجُوزُ الْمَسْحُ عَلَى الْجَوْرَبَيْنِ إِلَّا إِذَا كَانَا ثَخِينَيْنِ يُمْكِنُ الْمَشْيُ عَلَيْهِمَا بِلَا
والله تعالى أعلم بالصواب
উত্তর প্রদানে :
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি (ফতোয়া বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ উত্তরা ঢাকা
ফাতাওয়া ও মাসায়েল