“ইসলামী নিয়মে স্ত্রী স্বামীকে তালাক দিতে পারবে না কেন?”
মুহতারাম মুফতি সাহেব, ১৯৯৯ সালের ৩ অগাস্ট ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় আমি একটা ছেলেকে বিয়ে করি। আমার বাসায় জানত না। বিয়েতে তার বোন, জামাই,বন্ধুরা উপস্থিত ছিল। আমরা একসাথে পড়াশোনা করতাম। এর অনেক দিন পর আমার বাসায় জানাজানি হয়। আমার বাবা অবস্থা সম্পন্ন ছিলেন। মেনে নেন। কিন্তু কিছু দিন পর ছেলেটার আচরন বদলে যেতে থাকে। আমাকে নানা অজুহাতে সন্দেহ নোংরা কথা মার পিট করতে থাকে। অনেক দিন আমি বাসায় বলিনি। কিন্তু এক সময় বাসায় বুঝে যায়। এর আগে আমার আব্বু কাবিন চাওয়াতে সে আমাকে বলে কাবিন ৩ লাখ আমি দিতে পারব না তোমার আব্বু যদি মামলা করে। সে কাবিন বিভিন্ন উছিলায় দেয় না। তখন আমার আব্বু বলে তুমি নতুন করে কাবিন কর। আমি আগের কাবিনে শুধু সই করি। আর কাবিনের ধারা এগুলা কিছুই বুঝতাম না। সে নতুন করে ২৫০০০ টাকায় কাবিন করে।
এর কিছু দিন পর থেকে তার নোংরামি আরো বাড়ে। সন্দেহ নোংরা কথা গালি গালাজ এসব চলে। এক দিন ঝগড়ার মুহুর্তে সে আমার মা কে লুংগি তুলে দেখায়। এর পর আমি সিদ্ধান্ত নেই যে আর সম্ভব না। আমি তার পরিবার কে জানাই তার বড় ভাই অভিভাবক। তারা বলে যে সে আমাদের কথা শোনে না তুমি বয়স থাকতে সিদ্ধান্ত নাও। আমি তাকেও বলি যে আমি সংসার করতে চাই না। সে এর কোন উত্তর দেয় না। বাসা থেকে চলে যায়। বলে তালাক হইলে আর যোগাযোগ করবো না। কিন্তু সরাসরি কিছু বলে নাই। বা ক্ষমাও চায় নাই। সংসার করবে না কথায় বুঝা গেছে। এর পর আমার বাবা মা সহ আমি কাজি অফিসে গিয়ে তালাক নামা তার বাড়িতে পাঠাই। সে প্রায় ২/৩ মাস পর ফোন দিয়ে আমার বড় বোন কে বলে যে আপনার বোন তালাক দিছে আমি বিয়ে করছি। এটা ২০০৬ এর ঘটনা এখানেই শেষ।
আমার প্রশ্ন হল তালাক কি বৈধ? বর্তমানে আমি স্বামী সহ সুখেই আছি। যদি বৈধ হয় তো ভাল আর না হলে এখন কি করবো?
নিবেদক,
নাজমুন নাহার সুলতানা
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী বিধান মতে মৌলিকভাবে তালাক দেওয়ার অধিকার একমাত্র স্বামীর। স্ত্রী তালাক দিতে পারে না। তবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অধিকার দিলে সেই অধিকারের ভিত্তিতে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করতে পারেন।
সুতরাং প্রশ্নোল্লিখিত সুরতে আপনি ও পরিবার সহ কাজির মাধ্যমে যে তালাকনামা পাঠিয়েছেন তা যদি আপনার স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক গ্রহণের অধিকার পাওয়ার ভিত্তিতে হয় তাহলে তালাক কার্যকর হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। বিধায় এখন আপনার অন্যত্রে বিবাহে আবদ্ধ হওয়া বৈধ। তাই নিশ্চিন্তে সেখানে ঘর-সংসার করতে পারেন। তবে তালাকের অধিকার না পেয়ে বর্ণিত পদ্ধতি তালাক বৈধ হয়নি। আর অন্যত্রে বিবাহ আবদ্ধ হওয়াও সহিহ হয়নি।
উল্লেখ্য: আপনার বিবাহের কাবিননামা দেখুন। যদি সেখানে কাবিননামার ১৮ নং ধারাতে স্বামী কর্তৃক তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়া থাকে তাহলে আপনার পাঠানো তালাকনামার মাধ্যমে তালাক হয়েছে এবং বর্তমানে যে অন্যত্রে বিবাহে আবদ্ধ হয়েছেন তা বৈধ হয়েছে। আর কাবিননামায় অধিকার দেওয়া না থাকলে প্রথম বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি ও দ্বিতীয় বিবাহ বৈধ হয়নি।
الادلة الشرعية
الفتاوى الهنديه (١/٣٨٨)
وان كانت التفويض مقرونا بذكر الطلاق بان قال لها اختاري الطلاق فقالت اخترت الطلاق فهي واحدةرجعية
الهدايه (٢/٣٨٥)
واذا اضافه الى الشرط وقع عقيب الشرط اتفاقا مثل ان يقول لامراته ان دخلت الدار فانت طالق
الهندية(١/٤٧٠)
واذا طلق الرجل امراته تطليقة رجعية او تطليقتين فله ان يراجعها في عدته
کتاب المسائل: (5-234)
میاں بیوی میں کسی بات پر بات پڑه گئی ۔ بیوی نے پوچھا کیا اپ چاہتے ہیں کہ "میں اپنے کو طلاق دے دو"؟ اس پر شوہر نے کہا "ہاں" یہ سن کر بیوی نے کہا " میں نے اپنے اپ کو طلاق دے دی" تو اگر شوہر کا مقصد تفویض طلاق تھا ۔ تو بیوی پر ایک طلاق ہو جائے گی،
كتاب المسائل: (٥/٢٤١)
شوہر نے بیوی سے کہا کہ "تو طلاق لے لے" بیوی نے کہا کہ "میں نے طلاق لے لی" تو ایک طلاق رجعی واقع ہو جائے گی-
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش