ফিকহ বিবাহ-শাদি

শালীর সঙ্গে ব্যভিচার করলে বিবাহ কি ভেঙে যায়?

শালীর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের বিধান

 

ইসলামে শালী বা স্ত্রীর বোনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক, যেমন ব্য*ভিচার, কামনাসহকারে স্পর্শ ইত্যাদিঅত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কবীরা গোনাহের কাজ। তবে এই ধরনের কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলেও, তা স্বয়ং স্ত্রীকে হারাম করে দেয় না। কারণ হুরমতে মুসাহারাত (বৈবাহিক নিষিদ্ধতা) যে সম্পর্কগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাতে বোন বা শালীর সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, স্ত্রী শালীর মূল বা শাখা-প্রশাখার অন্তর্গত নয়। হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত

 

قال عكرمة عن ابن عباس: إِذا زَنيَ بِأَخْتِ امْرَأَتِهِ لَمْ تَحْرُمُ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ

 

যদি কেউ তার স্ত্রীর বোনের সঙ্গে ব্যْ*ভি*চার করে, তবুও তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে না। সহীহ বুখারী ৩/৩৫৮, হাদীস নং ৫১০৫

 

তবে শালীর সঙ্গে যৌ*ন স*হ*বাস সন্দেহমূলকভাবে সংঘটিত হলে, সেই স*হবা*সকৃত শালীর ইদ্দততিন হায়েজ শেষ না হওয়া পর্যন্তস্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে যৌ*ন মি*লন করতে পারবে না।

 

আর যদি স্পষ্টভাবে ব্যা*ভিচার ঘটে, তাহলে শালীর এক হায়েজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর সঙ্গে মি*লন করা যাবে না। যাতে শরিয়তের দৃষ্টিতে দুই বোনকে একত্রে সহবাসের আওতায় আনার নিষিদ্ধতা (جمع بين الأختين) সংঘটিত না হয়।

 

ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া-এর ফতোয়ায় বলা হয়েছে

শালীর সঙ্গে ব্যা*ভি*চার বা যৌ*ন স*হবাসের ক্ষেত্রে, ব্যা*ভি*চারকারী ব্যক্তির স্ত্রী তার জন্য হারাম হবে না। তবে, শালীর এক হায়েজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বামীকে তার স্ত্রীর সঙ্গে মি*লন থেকে বিরত থাকতে হবে। ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া ৪/৫৬০, প্রকাশক: জামিয়াত পাবলিশার্স।

 

পাকিস্তানের বিখ্যাত ফাতাওয়া ওয়েবসাইটআল জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, বিন্নুরি টাউন, করাচী, এ বিষয়ে উল্লেখ করেছে

 

শালীর (স্ত্রীর বোন) সঙ্গে ব্য*ভিচার করা অত্যন্ত ঘৃণিত

ও জঘন্য অপরাধ। এটি কাবীরা (মহাপাপ) গোনাহ এবং কঠোরভাবে নিন্দিত কাজ। এ ধরনের পাপকর্মে লিপ্ত হলে আন্তরিকভাবে তাওবা করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা জরুরি। শরিয়তে গাইরে মাহরাম নারীদের সঙ্গে পর্দার বিধান দেওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্যই হলোএই ধরনের অশ্লীলতা ও অনাচারের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া। এ জন্য শালীর সঙ্গে হাত মেলানো পর্যন্ত শরিয়তের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।

 

তবে যদি কেউ কামনাসহকারে শালীর সঙ্গে হাত মেলায় বা তার সঙ্গে ব্য*ভিচারে লিপ্ত হয়, তাহলেও এ অপরাধের কারণে তার নিজের স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধন বাতিল হয়ে যায় না। অর্থাৎ, তার স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক পূর্বের মতোই বহাল থাকে।  তবে এমন গর্হিত ঘটনার পর, শরিয়তের দৃষ্টিতে ওই ব্যক্তির জন্য তার শালীর সঙ্গে কঠোর পর্দা পালন করা ফরয, যাতে ভবিষ্যতে এই নোংরামির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

 

আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলোযদি কেউ শালীর সঙ্গে স*হবাস করে, তবে স্ত্রীর সঙ্গে সহ*বাস করার আগে শালীর এক হায়েজ শেষ হওয়া (ইস্তিবরায়ে রেহম) পর্যন্ত অপেক্ষা করা আবশ্যক। আর যদি শালী গর্ভবতী হয়ে যায়, তবে সন্তান জন্ম না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রীর সঙ্গে স*হবাস করা জায়েয হবে না। আল জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া, বিন্নুরি টাউন, করাচী, ফতোয়া নম্বর: ১৪৪৩১১১০০২৮৪, ফাতাওয়া শামী ৩/৩৪

 

وفي الخلاصة: وطئ أخت امرأته لاتحرم عليه امرأته. (قوله: وفي الخلاصة إلخ) هذا محترز التقييد بالأصول والفروع وقوله: لايحرم أي لاتثبت حرمة المصاهرة، فالمعنى: لاتحرم حرمة مؤبدة، وإلا فتحرم إلى انقضاء عدة الموطوءة لو بشبهة، قال في البحر: لو وطئ أخت امرأة بشبهة تحرم امرأته ما لم تنقض عدة ذات الشبهة، وفي الدراية عن الكامل: لو زنى

بإحدى الأختين لايقرب الأخرى حتى تحيض الأخرى حيضةً

 

প্রকাশিতব্য হুরমতে মুসাহারাত গ্রন্থ থেকে।

সংকলন ও অনুবাদ মুহাম্মাদ খাইরুল ইসলাম

৩১ ডিসেম্বর ২০২৫