নিজে স্বাক্ষর না করা তালাক নোটিশ: সংসার ভাঙবে কি?
আসসালামু আলাইকুম।আমার সমস্যা টা নিচে তুলে ধরলাম।
আমার আর আমার স্ত্রীর বিয়ের পর আমাদের একটা কন্যা সন্তান হয়। সন্তান হওয়ার ১৫ দিন পর স্ত্রী বাপের বাড়িতে বেড়াতে যায়। যাওয়ার পর আর সংসারে ফিরে আসতে চাই না। আমি সহ আমার অভিভাবক অনেক বার আনতে যায় কিন্তু আসেনি। এর পর আমি আইনের আশ্রয় নেয়। পরিবার ফিরে পাওয়ার জন্য কোর্টে একটা পরিবার পুনঃরুদ্ধারের জন্য মামলা করি। কোর্ট অনেক বার নোটিশ দেওয়ার পরও তারা উপস্থিত হয়নি। মামলার ১০ মাস পর আমার এক উস্তাদ(হুজুরের) সাথে দেখা হয়। উনি আলিয়া মাদ্রাসার ভাইস-প্রেন্সিফল। ইসলামী কোনো সমাধানের জন্য মানুষ তার কাছে যায়। উনি আমার স্ত্রীর আসা নিয়ে প্রশ্ন করলে আমি উনাকে সব খুলে বলি। তারপর উনি আমাকে একটা পরামর্শ দেয়। হুজুর বলে তুই একটা তালাকের আইনি নোটিশ পাঠা।এবং হুজুর বলে সেটাতে তুই সাইন করবি না। তারপর আসে কিনা দেখ। তখন আমি হুজুর কে জিজ্ঞেস করলাম যদি ৯০ দিন পরে তালাক হয়ে যায়,তখন? হুজুর তখন আমাকে বলে তুই মুখে না দিলে, এবং নিজে স্বেচ্ছায় সাইন না করলে তালাক হবে না। তারপর আমি একটা দোকান থেকে নোটিশ কিনে নেয়। সেটা কোনো কাজী বা উকিলের মাধ্যমে পূরণ করায়নি। আমার একটা ছোট ভাইকে বলি পূরণ করে দেয়ার জন্য। তখন সে আমার সাইনের জায়গায় অন্য একটা ছোট ভাইকে দিয়ে আমার সাইনটা করায়। যে সাইন টা করে সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, ভাই আপনার জিনিস আপনি সাইন করতেছেন না কেনো? তখন আমি উত্তর দেয়, আমার তালাক দেয়ার ইচ্ছে নাই তাই আমি সাইন করতেছিনা। তারপর সে বলে তাহলে আমি দিয়ে দিচ্ছি? তখন আমি বলি, আমি দেয়ার জন্য অনুমতি ও দিতে পারবো না। তখন যে ভাই টা ফরমটা পূরণ করে সে তার মাধ্যমে সাইন টা করিয়ে নেয়। সে সাইন করার সময়ও আমি বলি আমার তালাক দেয়ার ইচ্ছে নাই। তারপর আমি সেটা পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে দুই বছর চলতেছে। এবং ঐ নোটিশে কি লেখা আছে, কোন কলামে কি আছে, এবং কত তালাক আছে আমি সেটাও পড়িনি। একবছর পরে জানতে পারি সেখানে এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক লেখা নেয়। লেখা আছে এক তালাক, দুই তালাক এবং বাইন তালাক ( একটা কথা বলে রাখা উচিত,, আমি কখনো আমার স্ত্রী কে মুখে তালাক দেয়নি,, সেটা হোক এক, দুই, এবং তিন) আমি যতটুকু জানি মুখে তালাক দিলে তা হয়ে যায়। আমার মনে তালাক দেয়ার কোনো ইচ্ছে ছিলোনা তাই আমি সাইনও করিনি এবং মুখেও কোনো দিন তালাক দেয়নি। একসময় তার সাথে ফোনে অনেক কথা কাটাকাটি হয়। এবং সে বারবার বলে তাকে ডিভোর্স দিতাম, এরকম অনেক বার বলছে। তখন আমি একবার বলছিলাম ঠিক আমি দিচ্ছি এই বলে আমি নিজ থেকে ফোন কেটে দেই। আমি দিলাম বলিনি, বলছি দিচ্ছি। তারপর আমাদের মাঝে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক হয় কয়েক দিন পর।এর এক দেড় বছর পর হুজুরের সাথে বিষয় টা নিয়ে কথা। যদি হুজুরের এই মাসায়েল টা ভুল হয় তাহলেও কি ইসলামের দৃষ্টিতে তালাক হয়ে গেছে? এই বিষয়ে কোরআন হাদিসের সমাধান দিলে খুব উপকৃত হতাম। ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম
নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী বিধান মতে যদি কোন ব্যক্তি তালাকনামায় দস্তখত না করে অথবা অন্যকে দস্তখত করার অনুমতি ও না দেয় তাহলে সেই তালাকের নোটিশ তার পক্ষ থেকে গণ্য না হওয়ার কারণে তালাক পতিত হবে না।
সুতরাং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী যেহেতু আপনি নিজে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন নাই অথবা আপনার পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করার অনুমতিও দেন নাই বিধায় ইসলামী বিধি মতে তালাকের সেই নোটিশ আপনার পক্ষ থেকে কার্যকর না হওয়ার কারণে কোন ধরনের তালাক পতিত হবে না ফলে আপনাদের সংসার ঠিক আছে এবং আপনার উস্তাদের কথাও ঠিক আছে। এবং পরবর্তীতে আপনার স্ত্রীর পক্ষ থেকে তালাক চাওয়ার ভিত্তিতে আপনি যখন বলেছিলেন তালাক দিচ্ছি এর দ্বারা ও তালাক পতিত হবে না কারণ সেটা তালাকের ওয়াদা মাত্র আর তালাকের ওয়াদা বা অঙ্গীকার দ্বারা তালাক পতিত হয় না।
الادلة الشرعية
المحيط البرهاني ٤/٤٨٦
وكذا كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق اذا لم يقر انه كتابه
رد المحتار ٤/٥٥٩
انا اطلق نفسي لم يقع لانه وعد
الفتاوى الهندية١/٣٧٦
وكذا كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق اذا لم يقر انه كتابه
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش