নিয়ত ছাড়া ডিভোর্সে স্বাক্ষর, তিন তালাক লেখা স্ত্রীকে কি আবার গ্রহণ করা যাবে?
জনাব, আমার বিয়ের প্রায় ৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পর গত ১ মাস পূর্বে পরকিয়া সংক্রান্ত কারনে আমার স্ত্রীকে মা ও তাহার দুই মামার কাছে কোর্টের মাধ্যমে তাহাকে বাড়ী নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করি। উল্লেখ ছিল যে, তাহাকে বুঝিয়ে সংশোধনের জন্য বাড়ী পাঠানো হয়েছে। আমাদের পরিবারে দুই জন ছেলে সন্তান আছে। একজনের বয়স ৭ ও আরেক জনের বয়স ৪ বছর।
আমার পরিবারের চাপে আমি আমার স্ত্রীকে গত ৩০/১১/২০২৫ইং তারিখে কোর্টের ডিভোর্স পত্র তাহার বাড়ীতে পাটিয়েছি। ডিভোর্স পত্রে স্বাক্ষর করার সময় আমি শুধু চোখে দেখে না পড়ে স্বাক্ষর করি। কিন্তু ডিভোর্স দেওয়া আমার নিয়ত ছিল না। তখন আমার মা উপস্থিত থেকে আমাকে বলল স্বাক্ষর দেওয়ার জন্য বাধ্য করে। উল্লেখ্য যে ডিভোর্স নামায় তিন তালাক লেখা ছিল। কিন্তু আমি না পড়েই স্বাক্ষর করি।
আমার স্ত্রী ডিভোর্স পত্র পাওয়ার পর আমাকে ফোন দেয়। তখন আমি না বুঝে বলেছি যে, তোমার সাথে ইসলামীম বিধান অনুযায়ী কথা বলা হারাম। সে মানতে রাজি না। সে আমার কাছে জীবন ভিক্ষা চায়, আর জীবনে এইরকম কাজ করবে না বলে আমাকে আশ্বাস দেয়। তখন আমি বলেছি যে, তোমার সাথে কথা বলা আমার পক্ষে সম্ভব না। আমি শুধু আমার সন্তানের সাথে কথা বলব।
পরবর্তীতে আমাকে না জানিয়ে আমার বাড়ীতে চলে আসে। আমি তাহাকে বাড়ীতে ঢুকতে দেইনি। সে আমার এলাকার কয়েকজন মুরুব্বী আমার স্ত্রীকে আমার নিকট হস্তান্তরের চেষ্ঠা করে। আমি তাদেরকে জানিয়ে দেয়, কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্স দিয়েছি। এটা না বুঝে আমি মুরুব্বীদের বলেছি যে, ইসলামের আইন অনুযায়ী তাহাকে গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তখন আমি নিজেকে আমার স্ত্রীর কাছ হইতে সেইভ হওয়ার জন্য থানা হইতে পুলিশ আনি। সে পুলিশ দেখে পালিয়ে রাতের বেলায় বাবার বাড়ী কুমিল্লায় চলে যায়।
আমার উল্লেখিত বর্ণনা অনুযায়ী তাহাকে কি আমি আবার পুনরায় আমার পরিবারে আনা যাবে কি। দয়া করে উত্তম সমাধান দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ রহিল।
নাম: মোঃ গিয়াসউদ্দিন মোল্লা
হবিগঞ্জ , বাংলাদেশ
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী বিধান মতে তালাক একটি নিকৃষ্ট গর্হিত বৈধ কাজ অতি প্রয়োজন ব্যতীত শরীয়ত তালাক দেওয়া থেকে নিরুৎসাহিত করে তথাপি কোন ব্যক্তি যদি কারণে অকারনে ইচ্চায় অনিচ্ছায় লিখিত বা মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে দেয় তাহলে সংখ্যা অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যায়।
সুতরাং বর্ণিত ডিভোর্স নামায় লিখিতভাবে তিন তালাকের স্বীকারোক্তি থাকার পাশাপাশি সেই ডিভোর্স নামায় আপনার স্বাক্ষর করার কারণে উক্ত তালাক আপনার পক্ষ থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হওয়ার দরুন তাৎক্ষণিকভাবে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে একজন অপরজনের জন্য স্থায়ীভাবে হারাম হয়ে গেছেন
তবে বৈধ ভাবে সংসার করার পদ্ধতি হল উক্ত তালাকপ্রাপ্তা ইদ্দত পালনের পর স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার মাধ্যমে উক্ত স্বামী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দত পালন পরবর্তী চাইলে আপনার সাথে বিবাহে আবদ্ধ হওয়ার সুযোগ রয়েছে অন্যথায় নয়।
الادلة الشرعية
سورة البقرة (٢٣٠)
فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره
السنن الكبرى للبيهقي (١٤٤٩٢)
قال حسن : لولا اني سمعت ابي يحدث عن جدي النبي صلى الله عليه وسلم : من طلق امراته ثلاثا لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره
المصنف لابن ابى شيبة(١٨٠٨٧)
عن واقع بن سحبان قال سئل عمران بن حصين رضي الله عنه عن رجل طلق امراته ثلاثا في مجلس قال اثم بربه و حرمت عليه امراته
الهداية (٢/١٣٢)
وان كان الطلاق ثلاثا في الحرة او ثنتين في الامة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها او يموت عنها
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش