ফিকহ পর্দা

পালক ছেলের সঙ্গে পর্দা ফরজ কি না—ইসলাম কী বলে?

প্রশ্ন:

আলেমদের কাছে জানতে চাই, আমার বড় ভাই ও ভাবির কোনো সন্তান ছিল না। তাই তারা আমাদের এক চাচাতো ভাইয়ের সন্তানকে নিয়ে লালন-পালন শুরু করেন। এখন সেই ছেলে SSC তে পড়ে, অর্থাৎ বালেগ (প্রাপ্তবয়স্ক) হয়ে গেছে। আমি আমার ভাবিকে লিখে জানাই যে, এই ছেলেটি আপনার জন্য মাহরাম নয়, তাই তার থেকে পর্দা করা আপনার জন্য ফরজ। যদি আপনি পর্দা না করেন, তবে আপনি আল্লাহর কাছে গুনাহগার হবেন এবং এটি একটি কবিরা গুনাহ। আমি আরও বলেছি যে, এই দুনিয়ার জীবন সাময়িক, তাই আখিরাতের কথা ভেবে এই ছেলের থেকে পর্দার ব্যবস্থা করুন, অথবা তাকে তার প্রকৃত পিতা-মাতার কাছে ফিরিয়ে দিন। এতে আমার ভাবি আমার ওপর রাগ করেছেন, এমনকি ভাইও বলেছেন, তুমি এমন কথা বললে কেন ?

এখন জানতে চাই, আমি কি সঠিক বলেছি ? এবং ছেলেটির শরয়ি (ইসলামি) অবস্থান কী হবে ? তাদের বক্তব্য হলো রাসুলুল্লাহ -ও তো হযরত যায়েদকে নিজের পুত্র বানিয়েছিলেন। দয়া করে দিকনির্দেশনা দিন ।

 

উত্তর :

আপনি আপনার ভাবিকে একদম সঠিক কথাই বলেছেন। পালক সন্তান প্রকৃত সন্তান নয়; তার থেকে পর্দা করা ফরজ  এবং উত্তরাধিকার, মাহরাম ইত্যাদি কোনো বিষয়েই প্রকৃত সন্তানের মতো শরয়ি হুকুম প্রযোজ্য নয় ।

হযরত যায়েদ ইবনে হারিসা (রা.)-এর প্রসঙ্গে বলা যায়, রাসুলুল্লাহ তাঁকে অবশ্যই পালক সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন ; তবে শরয়ি হুকুমে তাঁকে বাস্তব সন্তানের মতো মর্যাদা বা অধিকার দেননি। এই কারণেই রাসুলুল্লাহ হযরত যায়েদের স্ত্রী হযরত যায়নাব বিনতে জাহশ (রা.)-এর সাথে তালাকের পর বিয়ে করেছিলেন । অথচ বাস্তব পুত্রের স্ত্রীর সাথে বিয়ে করা শরীয়তে হারাম।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন :

আল্লাহ তোমাদের মুখে নেওয়া পুত্রদের (দত্তক সন্তানদের) প্রকৃত পুত্র বানাননি। এগুলো তোমাদের মুখের কথা মাত্র। আল্লাহ ন্যায্য কথা বলেন এবং সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।  (সূরা আহযাব, আয়াত ৪)

আরও ইরশাদ হয়েছে :

তোমরা তাদের (দত্তক সন্তানদের) তাদের প্রকৃত পিতার নামে ডাকো ; এটাই আল্লাহর দৃষ্টিতে অধিক ন্যায্য। আর যদি তোমরা তাদের পিতা সম্পর্কে না জানো, তবে তারা তোমাদের ধর্মীয় ভাই ও বন্ধু। তোমরা ভুল করে যা করেছ তাতে কোনো গুনাহ নেই; কিন্তু যা তোমরা ইচ্ছাকৃতভাবে করো, সেটাই গুনাহ। আর আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

(সূরা আহযাব, আয়াত ৫)

 

বি.দ্র. :  শিশুর বয়স চাঁদের হিসাবে দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে যদি পালক মা তাকে নিজের স্তনের দুধ খাওয়ান, তাহলে সে দুধের সন্তান হিসেবে গণ্য হবে । ফলে বড় হওয়ার পর সে পালক মা ও বাবার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে।

অন্যদিকে, যদি পালক সন্তান ছেলে হয় এবং পালক মায়ের বোনের দুধ পান করে, তবে সেও পালক মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারবে।

আর যদি পালক সন্তান মেয়ে হয়, তবে পালক পিতার বোনদের দুধ খাওয়ালে তাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ বৈধ হবে । অথবা তাদের অন্য সন্তান থাকলে বিয়ে দেওয়ার মাধ্যমেও দেখা সাক্ষাৎ বৈধ হবে।

 

সংকলনে

মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ

ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ

শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল

(এই লেখার অধিকাংশ বিষয় জামিয়াতুল উলুম ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউনের ফতোয়া থেকে নেওয়া)

 


১৭ ডিসেম্বর ২০২৫