তালাক গণনায় সন্দেহ? কম নাকি বেশি, কোনটিই গণ্য?”
মুহতারাম মুফতি সাহেব, (১) আমি তালাকের মাসআলা সম্পর্কে পূর্বে অবগত ছিলাম না (যেমন: "ছেড়ে দিলাম" বা "দিয়া দিলাম" জাতীয় শব্দে তালাক হতে পারে)। প্রায় দেড় বছর আগে আমার স্ত্রী আমার কাছে তুই আমারে নিয়া না খাইলে আমারে ডিভোর্স দিয়া দেয় তো আমি ঠিক আছে দিয়া দিলাম বা ছেড়ে দিলাম এই রকম শব্দ ব্যবহার করি, আমার জানা মতে আমি একবার এই রকম ভাবে বলি।এরপর তিন মাস কোনো শারীরিক সম্পর্ক বা রুজু না হয়,যেহেতু আমি প্রবাসি থাকি আর এই বিষয় আমার জানা ছিল না। তবে কি আমাদের বিবাহ 'এক তালাকে বায়েন' হয়ে গেছে? যদি হয়ে যায়, তবে পুনরায় একসাথে থাকতে হলে আমাদের করনীয় কী?
(২) মূল সমস্যাগুলো: সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমি প্রায় তিন বছর আগে বিদেশ আসি, তো এই তিন বছরে আমাদের মাঝে প্রায় সময় ঝগড়া ঝামেলা হয়, তো প্রায় সময় আমি বলি তরে তালাক দেম বা ছাইড়া দেম,এই রকম প্রায় বলতাম। তো একদিন ঝগড়া সময় আমার স্ত্রী আমার কাছে ডিভোর্স চায় বা ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলে তো আমি বলি ঠিক আছে তকে দিয়া দিলাম বা ছেড়ে দিলাম এই রকম শব্দ ব্যবহার করি, তো এই বিষয়ে আসলে আমি পুরাপুরি নিশ্চিত না যে ঠিক এই রকম শব্দ ব্যবহার করছি,নাকি অন্য কিছু বলছি, আমার মনে হয় আমি এই রকম একবার বলেছি। তো ওই সময় আমার এই বিষয়ে তেমন ধারনা ছিল না, এই শব্দ ব্যবহার করলে তালাক হয়ে যায়, এই ঘটনাটা প্রায় দের বছর আগের, তো কিছু দিন ধরে হঠাৎ করেই এই বিষয়টা আমার মাথায় আসে যে আমি একবার এই শব্দ ব্যবহার করছি, তো যখন আপনাদের জিজ্ঞেস করি ছেড়ে দিলাম বা দিয়া দিলাম বললে কি তালাক হয়ে যায়, তো আপনি বললে এই শব্দ ব্যবহার করলে নিয়তের কোন প্রয়োজন নেই এমনেই এক তালাক হয়ে যায়। যখন এই বিষয় জানতে পারি এখন খালি আমার মনে অনেক টেনশনে কাজ করে যেই এই শব্দটি কতবার ব্যবহার করেছি (একবার, দুইবার, নাকি তিনবার), বা এর আগে কোন দিন ব্যবহার করছি কিনা তা নিশ্চিতভাবে মনে করতে পারছি না। এটি নিয়ে মানুষিক ভাবে অনেক টেনশনে পড়ে যাই। এটি আমার মনের ভুল ধারণা বা ওয়াসওয়াসাও হতে পারে। আমার স্ত্রীও এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছেন না। আমার শুধু একবার বলার কথা পড়ছে, এই ঘটনাটি প্রায় দেড় বছর আগের। ওই ঘটনার পর আমাদের মাঝে এই শব্দ আর ব্যবহার হয় নাই, আর আমার একটা পাচ বছরের বাচ্ছা আছে।
এখন আমার প্রশ্ন হলো, তালাকের সংখ্যা নিয়ে আমার যেহেতু চরম সন্দেহ ও অনিশ্চয়তা রয়েছে (একবার/তিনবার বা অধিক বার, এই অবস্থায় শরিয়ত মতে আমাদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ফায়সালা কী? যদি আমি তিন বার ব্যবহার করে ফেলি আর যেহেতু আমার সঠিক ভাবে মনে পরছে না, আমি অনেক চেস্টা করেও মনে করতে পারছি না, এই বিষয়ে আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলি, সেও বলে এই রকম নাকি এক বার মুখে উচ্চারণ করছি। যেহেতু আমি কতবার বলেছি সংখ্যা নিয়ে নিশ্চিত নই, খালি মনে আছে মনে হয় একবার বলেছি। তাই সর্বোচ্চ সতর্কতা হিসেবে যদি আমরা আল্লাহর কাছে তওবা করে নতুনভাবে মোহর ধার্য করে ও সাক্ষীর মাধ্যমে বিবাহ (নিকাহ) করি, তবে কি তা শরীয়তসম্মত হবে? এতে কি কোনো গুনাহ হবে?
মুল কথা হলো: যদি আমি তরে ছেড়ে দিলাম বা দিয়ে দিলাম বলি তাইলে আমাদের এক তালাক রজয়ী হয়ে যায়, তো এই সময় তাকে তিন মাসের উদ্দত পালন করতে হয়, আর এই ইদ্দতের সময় যদি আমি এই রকম আরো এক বা দুই বা তিন বার দিয়ে দিলাম বা ছেড়ে দিলাম বলে থাকি, তাইলে কি আমাদের মধ্যে সম্পুর্ণ রুপে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। আর যেহেতু আমার সম্পুর্ন রুপে মনে নাই আসলে কত বার বলেছি বা বলেছি কি না সঠিক ভাবে তাও জানি না,এইটা আমার মনের ভুল ধারনাও হতে পারে। বা শয়তানের ধোকাও হতে পারে। আমার স্ত্রীর সাথে কথা বলেছি সেইও এই বিষয়ে কিছু বলতে পারছে নানিশ্চিত করে। সে বলছে যদিও বলে থাকি তাইলে একবার বলেছি। তো আমার মনে খালি সন্দেহ জাগে একবার বলেছি নাকি তার চেয়ে বেশি বলেছি বা আধও বলেছি কিনা তা নিয়ে অনেক সন্দেহ আছে, যেহেতু বিষয় টা অনেক পুরানো আর ওই সময় আমার এই বিষয়ে ধারনা ছিল না, বা এইটা আমার মনের ভুলও হতে পারে, এই অবস্থা আসলে আমার এখন করনীয় কি, যদি ইসলামের আলোকে জানাতেন, তাইলে অনেক উপকার হত।
আশাকরি, আপনার কাছ থেকে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট ফায়সালা পাব।
নিবেদক,
মজিদুল হক - কুমিল্লা
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামী বিধান মতে তালাকের সংখ্যার ব্যাপারে সন্দেহ হলে সর্বনিম্ন সংখ্যা যা নিশ্চিত রূপে বলা যায় সেটি গণ্য হয় এবং এর উপর ভিত্তি করে হুকুম আরোপ করা হয়।
সুতরাং উক্ত নীতিমালা অনুযায়ী আপনি যেহেতু তালাকের সর্বনিম্ন সংখ্যা এক তালাক ব্যতীত দুই তিন সংখ্যার ব্যাপারে সন্ধিহান হয়ে আছেন। বিধায় এক্ষেত্রে সর্বনিম্ন নিশ্চিত সংখ্যা এক হিসেবে এক তালাক গণনা করা হবে এবং ইদ্দতের ভিতর যেহেতু স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেননি তাই আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ইদ্দত পরিপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে শেষ হয়ে গেছে। ফলে আপনাদের বর্তমান সংসার বৈধ নয়।
তবে নতুন মোহর নির্ধারণের মাধ্যমে সাক্ষীর উপস্থিতিতে শরীয়াহ সম্মতভাবে বিবাহ নবায়ন করে সংসার করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে পরবর্তীতে আপনি আর দুই তালাকের মালিক থাকবেন। ভবিষ্যতে কখনো দুই তালাক দিয়ে দিলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক শেষ হয়ে পরস্পর হারাম হয়ে যাবেন।
الادلة الشرعية
(الدر المختار مع رد المحتار -3/283)
ولو شك أطلق واحدة أو أكثر بنى على الأقل، وفى الشامية: بنى على الأقل أى كما ذكره الاسبجابى، الا أن يستيقن بالأكثر أو يكون أكبر ظنه،
(بدائع الصنائع، -3/126)
شك الوزج لا يخلو اما أن وقع فى أصل التطليق أطلقها أم لا؟......وان وقع فى القدر يحكم بالأقل لأنه متيقن به وفى الزيادة شك،
(قال الماوردي في الحاوي الكبير10-274)
قال ابن قدامة -رحمه الله- في المغني: وجملة ذلك أنه إذا طلق وشك في عدد الطلاق، فإنه يبني على اليقين. نص عليه أحمد في رواية ابن منصور، في رجل لفظ بطلاق امرأته لا يدري واحدة أم ثلاثا؟ قال: أما الواحدة فقد وجبت عليه، وهي عنده حتى يستيقن. وبهذا قال أبو حنيفة والشافعي؛ لأن ما زاد على القدر الذي تيقنه، طلاق مشكوك فيه، فلم يلزمه؛ كما لو شك في أصل الطلاق.
(المغني: جــ 7 - صــ 380 )
نَصَّ عَلَيْهِ أَحْمَدُ فِي رِوَايَةِ ابْنِ مَنْصُور: فِي رَجُلٍ لَفَظَ بِطَلَاقِ امْرَأَتِهِ لَا يَدْرِي وَاحِدَةً - أَمْ ثَلَاثًا ؟ قَالَ : أَمَّا الْوَاحِدَةُ فَقَدْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ وَهِيَ عِنْدَهُ حَتَّى يَسْتَيْقِنَ، وَبِهَذَا قَالَ أَبُو حَنِيفَةَ وَالشَّافِعِيُّ؛ لِأَنَّ مَا زَادَ عَلَى الْقَدْرِ الَّذِي تَيَقَّنَهُ فَلَمْ يَلْزَمْهُ كَمَا لَوْ شَكَّ فِي أَصْلِ الطَّلَاقِ- طَلَاقٌ مَشْكُوكٌ فِيهِ،
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش
সত্যায়নে
মুফতি আবু সাঈদ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ
শাইখ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার ঢাকা
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল