ফিকহ তালাক

বাইন তালাকের পূনরায় বিয়ে প্রসঙ্গে

মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমার নাম শহিদুল আলম (সুমন)। আমার বিবাহিত জীবনে আমার বউয়ের সাথো ৪ বছর ৮ মাস সংসার করেছি। এই সময়ের শেষ ১ বছর ৯ মাস বিদেশে ছিলাম। আমি দেশে থাকাবস্থায় বিয়ের ৬ মাস থেকেই আমার মা, ভাই, বোন ও বউয়ের সাথে অনেক সমস্যা হয়। আর সে সমস্যা থেকেই আামদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কিছু সময় একটু মনমালিনা হয়। তাই আমি বিদেশে যাওয়ার সময় আমার বউকে তাহার বাবার বাড়িতে রেখে যাই। সাথে আমার দেড় বছরের একটা বাচ্চা ছিল তাকেও তার মায়ের সাথে নানুবাড়িতে রেখে যায়। তখন আমাদের মাঝে কোন মনমালিনা ছিল না। কিন্তু হঠাৎ আমি যখন বিদেশ থেকে ধরা খেয়ে জেল খেটে দেশে ফিরে আসি তখন আমার মা, বাবা, ভাই ও বোন আমার বউকে আমাদের বাড়িতে জায়গা দিতে বা উঠতে অসম্মতি জানায়। এদিকে আমি হঠাৎ করে দেশে আসায় হাতে এমন টাকাও ছিল না যে, তাকে নিয়ে ভিন্নভাবে কোথাও থাকবো। আমি শশুর বাড়িতে সমাধানের জন্য ৬ মাস সময় চাইলে তারা অসম্মতি জানায় ও তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দেয় এবং মামলার ভয় দেখায়। কিন্তু আমি কোন অবস্থাতেই রাজি না হলে আমার বউকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোর করে কোর্টের মাধমে আমাকে তালাক নোটিশ পাঠায়। সে নোটিশে আমার বউয়ের বিন্দুমাত্র মত ছিলো না ও আমাদের মাঝে কোন মানমালিন্য বা সমস্যা ছিল না। ওনারা তালাকের নোটিশ পাঠালেও তা আমার কাছে এসে পৌঁছেনি। পরে দুই পরিবারে মুরুব্বি ও তৃতীয় পক্ষের বৈঠকের মাধ্যমে ২৪ই আগস্ট ২০২১ সালে খোলা তালাকের ব্যবস্থা করেন। আমার কোন কাবিন দিতে হয়নি আর তারাও মাফ করে দিয়েছেন। আর তখন আমার বাচ্চার বয়স ৩ বছর ৩ মাস (নাবালেগ) হওয়ায় তার মায়ের কাছে থাকে। আমার শশুরবাড়ির লোকজন তৃতীয় পক্ষের বাড়িতে কাজি আনেন। আমাকে কাজি তালাকনামায় স্বাক্ষর দিতে বললে আমি আগে স্বাক্ষর না দিয়ে আগে আমার বউয়ের স্বাক্ষর আনতে বলি। তারপর আমি স্বাক্ষর করি। পরে কাজি আমাকে তালাক দিতে বললে আমি আমার জানা নাই বলে তালাক দিতে অস্বিকার করি। পরে কাজি আমাকে তার শিখানো মত বলতে বলে। পরে আমি কাজির পিছে পিছে এক তালাক ও বাইন তালাক এই দুই শব্দ বলি।

 

এখন আমি আবার বাচ্চার মায়ের সাথে যোগাযোগ করি ও এক সাথে একে অন্যের সাথে থাকতে চাই। আমাদের মধ্যে যা হয়েছিল তা মূলত উভয় ফ্যামিলির কারণে। আর আমার পরেও কিছু করারর ছিল না কারণ তথন আমার টাকা-পয়সা ও বউ বাচ্চাকে রাখার মত যায়গাও ছিল না। আর বঞ্চার মা যা করেছেন সব তার অভিভাবকের চাপে। এখন একদিকে আমার বাচ্চার জীবন ও আমাদের উভয়ের জীবনের দিকে লক্ষ্য করে আমরা আবার সংসার করতে চাচ্ছি। আমরা এখন আবার সংসার করতে চাইলে শরীয়তের বিধান মোতাবেক কিভাবে হালাল সংসার করবো? উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।

 

নিবেদক,

                                                                            শহিদুল ইসলাম সুমন

                       

    الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

শরীয়তের দৃষ্টিতে তালাক প্রদানের অধিকার একমাত্র স্বামীর। তবে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অধিকার দিলে সে অধিকারের ভিত্তিতে নিজে তালাক গ্রহণ করতে পারবেন। আর বাইন তালাক পরবর্তী স্ত্রী ইদ্দত (তিন হায়েজ পরিমাণ সময় অতিবাহিত করা) পালন পরবর্তী উভয়ে আবার নতুন করে ঘর-সংসার করতে চাইলে নতুন মহর নির্ধারণ করে শরয়ী সাক্ষীর উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিবাহ নবায়ন করলেই হবে।

 

সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি আপনার স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অধিকার দেননি। বিধায় আপনার স্ত্রীর পক্ষ থেতে কোর্টের মাধ্যমে প্রেরিত তালাকের নোটিশের কারণে কোন তালাত পতিত হয়নি। আর মুরুব্বিদের নিয়ে কাজির মাধ্যমে যে খোলা তালাকের সিদ্ধান্ত হয় তার বিবরণ অনুযায়ী খোলা তালাক হয়নি। বরং কাজীর সাথে সাথে আপনার বলা বাক্য এক তালাক ও বাইন তালাক এর মাধ্যমে তালাকে বাইন পতিত হয়েছে। আর দুইটি তালাক ব্যবহারের কারণে পরবর্তীতে এক তালাক প্রয়োগের সক্ষমতা থাকবে।

এখন আপনার এক সাথে আবার ঘর-সংসার করতে চাইলে নতুন মহর নির্ধারণ করে শরয়ী সাক্ষীর (দুজন পুরুষ বা একজর পুরুষ ও দুজন মহিলা) উপস্থিতিতে ইজাব-কবুলের মাধ্যমে বিবাহ নবায়ন করলেই বৈধ স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হবেন।

 


الادلة الشرعية

 

(تنوير الأبصار مع رد المحتار-4/498-500)

                    فى تنوير الأبصار– و بأنت طالق بائن أو البتة....الخ واحدة بائنة ان لم ينو ثلاثا

 

(الفتاوى الهندية-1/472-473)

                   وفى الفتاوى الهندية-إذا كان الطلاق بائنا دون الثلاث فله أن يتزوجها في العدة وبعد انقضائها وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة وثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا


(مصنف ابن ابى شيبة، كتاب الرد على ابى حنيفة، نِكَاحُ الْمُحَلِّلَ، رقم الحديث-37347)

                حَدَّثَنَا عَائِذُ بْنُ حَبِيبٍ ، عَنْ أَشْعَثَ ، عَنِ ابْنِ سِيرِينَ ، قَالَ : لَعَنَ اللَّهُ الْمُحَلِّلَ وَالْمُحَلَّلَ لَهُ  وذُكِرَ أَنَّ أَبَا حَنِيفَةَ قَالَ : إِذَا تَزَوَّجَهَا لِيُحِلَّهَا ، فَرَغِبَ فِيْهَا فَلاَ بَأْسَ أَنْ يُمْسِكْهُا.

 

 

 

و الله اعلم بالصواب

 

كتبه                 

المجلس المشترك للإفتاء   

بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش


১৯ নভেম্বর ২০২৫