সংসাার করুম না, তোমার ইয়া‘নাফসি তুমি কর আমার ইয়া‘নাফসি আমি”,তুমি চাইলে ডিসিশন নাও
মুহতারাম মুফতি সাহেব, হাসবেন্ড যদি বার বার চলে যেতে বলেন বাপের বাড়ি। বলে যে, “যাগা বা চলে যেতে পারস না? বা বলে চলে যাও অথবা বলে যে, সংসাার করুম না, তোমার ইয়া‘নাফসি তুমি কর আমার ইয়া‘নাফসি আমি”। এসব বললে কি তালাক হবে? সে আবার বলতেছে যে, তালাকের নিয়ত করে বলেনি। এখন সে মিথ্যা বলছে নাকি সত্য বলছে আল্লাহ ভালো জানেন। এছাড়াও বলত কাগজ পাঠিয়ে দাও তোমার সবর না হলে কাজি অফিস যাও সংসার করুম না। তুমি চাইলে ডিসিশন নাও। আর আমরা জিন-জাদুতে আক্রান্ত। আজ থেকে ৮ মাস আগে এসব বলে বাপের বাসাই রেখে গেছে। পরে আবার নিয়ে গেছে ৮ মাস পর। এখন তালাক হয়েছে কিনা সঠিক টা জানালে উপকৃত হতাম। এখন আবার ৮ মাস পর নতুন করে সংসার শুরু করার পর আবার ঝগড়ার সময় সে বলছে যে, সংসার করুম না তোমার ইয়া‘নাফসি তুমি কর আমার ইয়া‘নাফসি আমি, তোর রাস্তা তোর আমার রাস্তা আমি, শেষ আজ থেকে সবশেষ। পরে আবার মিলছে।
আবার আমি যাচাই করছি তখন সে বলে আমি বলি নাই নিয়ত করে। পরে বলে ধুর যাহ ফি সাবিলিল্লাহ। আমরা বিচ্ছেদ এর জাদুতেত আক্রান্ত। কিছু হলেই বোনকে নিয়ে মাকে নিয়ে গালি গালাজ করে পরে বলছি বোন নিয়ে গালি দিলে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে কিন্তু এগুলা বলবা না। আবার যদি বলো তাহলে বিচ্ছেদ হবে। বলছে ঠিক আছে। রুকিয়া চলে আবার কিছুদিন ভালো থাকে আবার জিদ করে কথা ভুলেও যায় আবার মিথাও অনেক বলে। তবে অনেক উগ্র মেজাজ। আমিও কিছু মেজাজ খারাপ হলে তালাক চাইতাম আগে। যখন নাকি জানতে পেরেছি বিচ্ছেদ এর জাদু আছে তাই এমন হচ্ছে এখন সব কথা বিবেচনা করে একটু জানান।
আর আমার বোনরে যে গালি দেই ওটা ঠেকানোর জন্য না করছি। বিচ্ছেদ হবে ভয় দেইখাইছি এখন ভবিষ্যতে তে বলে ফেললে আমার বোনকে গালি দিলে তালাক হবে কি? ফিরিয়ে নিবো কিভাবে?
নিবেদক,
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
ইসলামিক শরিয়াহ মোতাবেক তালাক প্রদানের জন্য ব্যবহারিত কেনায়া শব্দ তথা এমন শব্দ যা তালাকের অর্থ প্রকাশ করার পাশাপাশি অন্য অর্থেও ব্যবহার হয় এমন শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত থাকা শর্ত। অন্যথায় তালাক পতিত হয় না।
সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনার স্বামী বলেছেন যে, “যাগা বা চলে যেতে পারস না? বা বলে চলে যাও অথবা বলে যে, সংসাার করুম না, তোমার ইয়া‘নাফসি তুমি কর আমার ইয়া‘নাফসি আমি”। উক্ত বাক্যগুলো তালাকের জন্য ব্যবহারিত কেনায়া শব্দ যা দ্বারা তালাক পতিত হওয়ার জন্য নিয়ত থাকা শর্ত। আপনার ভাষ্যমতে আপনার স্বামীকে নিয়তের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করার পরে তিনি উত্তর দিয়েছেন যে, তিনি তালাকের নিয়তে উক্ত শব্দগুলো বলেননি। তাই এতে কোন ধরনের তালাক পতিত হয়নি। আর তালাকের নিয়তের ব্যাপারে আপনার স্বামীর মুখের কথাই ধর্তব্য হবে।
আর আপনার বোনকে গালি দেওয়ার ব্যাপারে ভয় দেখানোর জন্য যে বলেছিলেন যে, “বোন নিয়ে গালি দিলে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে কিন্তু এগুলা বলবা না। আবার যদি বলো তাহলে বিচ্ছেদ হবে। বলছে ঠিক আছে।” আপনার এই ভাষ্য থেকে বোঝা যায় যে, তিনি আপনার বোনকে গালি দিবেনা বলে প্রতিশ্রতি দিয়েছেন। পরবর্তীতে গালি দিলে তালাক হবে মর্মে শর্ত মেনে নিয়েছেন যে বললেই তালাক হবে বিষয়টা এমন নয়। আর আপনি তালাক হবে মর্মে শর্ত দেননি। বরং আপনার স্বামীর লাগামহীন কথাবর্তা ও গালাগালি থেকে বিরত রাখার জন্য বলেছিলেন।
الادلة الشرعية شرح صحيح مسلم:
١٠/٧٨) قال الإمام النووي رحمه
الله: «الطَّلَاقُ الْكِنَايَةُ لَا يَقَعُ إِلَّا إِذَا نَوَاهُ الْمُطَلِّقُ (المبسوط
للسرخسي: ٦/٤) قال الإمام السرخسي رحمه
الله: «الْكِنَايَةُ لَا تَقَعُ إِلَّا مَعَ النِّيَّةِ، لِأَنَّهَا تَحْتَمِلُ
غَيْرَهَا (بدائع الصنائع:
٣/١٦٩) الكنيات لا تطلق بها قضاء
إلا بنية، أو دلالة الحال...... نحو اخرجى، واذهبى وقومى، (البحر الرائق،
زكريا-٣/٥٢٦) أن من الكنايات ثلاث عشرة لا
يعتبر فيها دلالة الحال، ولا تقع إلا بالنية، حبلك على غاربن.. اخرجى، اذهبى (شامي، كتاب الطلاق: ٥٣٠/٤) فإذا قال " رہا
كردم" أي سرحتك يقع به الرجعي؛ لأنه غلب في عرف الفرس استعماله في الطلاق،
وقد مر أن الصريح ما لم يستعمل إلا في الطلاق من أي لغة كانت و الله اعلم بالصواب كتبه المجلس المشترك للإفتاء بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش