শর্তের সাথে তিন তালাক সম্পৃক্ত করলে কত তালাক হয়?
মুহতারাম মুফতি সাহেব, ঘটনা: আমি আমার স্ত্রীর প্রতি বিভিন্ন কারণে অসন্তুষ্ট হয়ে আনুমানিক চার বছর আগে বলেছিলাম যে, তুমি তোমাদের বাড়ি থেকে আমার জন্য কোন কিছু আনবেনা।
এরপর যখনই তাদের বাড়ি থেকে আমার বাসায় সে, অথবা তাদের বাড়ির কেউ আসার আলোচনা হত, তখন প্রত্যেকবারেই আমি তাকে কোন কিছু আনতে কঠোর ভাবে নিষেধ করতাম।
কিন্তু আমি বারবার নিষেধ করা পরও সে, বা তাদের বাড়ি থেকে কেউ আসলে, প্রায় সময়ই কিছু নিয়ে আসত। পরবর্তীতে আমি বিরক্ত হয়ে বলেছি যে, এরপর থেকে আমার অনুমতি ছাড়া, যদি তোমার বাসার কোন কিছু আমাকে বা আমার সামনে দাও, তাহলে তুমি তিন তালাক।
তবে কিছুদিন আগে যখন আমার শশুর আমাদের বাসায় আসার সিদ্ধান্ত হয়, তখন আমি আমার স্ত্রীর প্রতি সন্তুষ্ট ছিলাম ও আমাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল। যার কারণে অন্যান্য বারের মতো এবার আর কোন কিছু আনতে নিষেধ করিনি। বরং বাজার করার সময় আমার স্ত্রী আমাকে বলেছিল যে, অমুক জিনিসটি আনতে হবে না। সেটি বাবা বাড়ি থেকে আনবেন। তারপরও আমি অন্যান্য বারের মত এবার কিছু আনতে নিষেধ করিনি। যেহেতু আমি তখন তার প্রতি সন্তুষ্ট ছিলাম ও এবার তার কথার প্রতি আমার মৌন সম্মতিও ছিল।
ঘটনাক্রমে, আমার শ্বশুর বাসায় আসার পর তাদের বাড়ির কিছু খাবার আমার স্ত্রী আমার অনুমতি ছাড়াই আমাকে দেয়। তখন আমি তাকে স্বরণ করিয়ে দেই যে, তোমার অনুমতি নেয়ার প্রয়োজন ছিল। সে বলে আমি ভেবেছিলাম অনুমতি নেবো, তবে ভুলে গেছি। এরপর থেকে এবিষয়টি নিয়ে সে খুবই চিন্তিত।
জানার বিষয় হলো-
বিগত সময়ে প্রত্যেকবারই কোন কিছু আনতে কঠোর ভাবে নিষেধ করা হতো, আর এবার স্ত্রী পিত্রালয় থেকে কিছু আনবে আলোচনা করার পরও নিষেধ করা হয়নি। এবং উভয়ের মাঝে সম্পর্ক ভালো থাকার কারণে মৌন সম্মতিও ছিল। এপরিস্থিতিতে শরীয়তের বিধান কি? জানিয়ে উপকৃত করবেন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।
নিবেদক
মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ
,
الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب
শরীয়তে ইসলামীয়ার বিধান মতে শর্ত যুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে শর্ত পাওয়ার সাথে সাথে তালাক পতিত হয়ে যায়। অন্যথায় নয়।
সুতরাং প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী আপনি যেহেতু স্ত্রীকে বলেছেন "আমার অনুমতি ব্যতীত শ্বশুরবাড়ির কোন খাবার সামনে দিলে তুমি তিন তালাক" অতঃপর অনুমতি ছাড়াই স্ত্রী আপনার সামনে শ্বশুর বাড়ির খাবার পেশ করার মাধ্যমে যেহেতু শর্ত পরিপন্থী কাজ করেছেন। ফলে তিন তালাক পতিত হয়ে গেছে, এটাই বাহ্যিক অবস্থা দ্বারা বুঝা যায়। কেননা স্ত্রী যখন আপনার সামনে খাবার পেশ করতেছিলেন তখন আপনি অনুমতির বিষয়টি স্মরণ করে দিয়েছিলেন অতপর স্ত্রী জবাবে একথা স্পষ্ট করলেন যে, অনুমতি নেওয়ার বিষয়টি তার মনে ছিল না। অতএব তিন তালাক পতিত হওয়ার জন্য এ বাহ্যিক দলিলই যথেষ্ট এবং তালাক পতিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনুমতি নেওয়ার বিষয়টা স্ত্রীর মনে না থাকাটা ওজর হিসেবে গণ্য হবে না। তবে তালাক পতিত না হওয়ারও একটি দুর্বল সম্ভাবনা থেকে যায় তবে অবশ্যই সেটা আপনার নিয়তের উপর নির্ভর করবে। কেননা আপনার দাবি অনুযায়ী প্রথমদিকে শ্বশুরবাড়ি থেকে কোন কিছু নিয়ে আসার ব্যাপারে নিষেধ করেছেন মুখ দ্বারা স্পষ্টভাবে আবার স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট হয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে কোন কিছু নিয়ে আসার অনুমতি দিয়েছেন। নিয়তের মাধ্যমে যে বিষয়টাকে আপনি মৌনোগত অনুমতি হিসাবে ব্যক্ত করেছেন। আবার মৌনগত সমর্থনের উপর দলিল ও পেশ করেছেন অতএব নিয়তের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়ি থেকে কোন কিছু নিয়ে আসার অনুমতি দেয়ার সময় উক্ত খাবার আপনার সামনে পেশ করার অনুমতির বিষয়টিও যদি মৌনোগতভাবে অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন। তাহলে নিয়তের মাধ্যমে শ্বশুরবাড়িতে কোন জিনিস নিয়ে আসা এবং তা
আপনার সামনে পেশ করা উভয়টির মৌনগত অনুমতি পাওয়া যাওয়ার কারণে কোন ধরনের তালাক পতিত হবে না।
মোটকথা: তালাক পতিত হওয়ার বিষয়টি বাহ্যিক দলিলের উপর নির্ভরশীল আর তালাক পতিত না হওয়ার বিষয়টি আপনার নিয়তের উপর নির্ভরশীল। তবে পরকালীন শাস্তির ভয় সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া একান্ত কাম্য।
الادلة الشرعية
الفتاوى الهندية (١/٤٢٠)
واذا اضافه الى شرط وقع عقيب الشرط مثل ان يقول لامراته ان دخلت الدار فانت طالق هذا بالاتفاق لان الملك قائم في الحال والظاهر بقائه الى وقت وجود الشرط لان الاصل بقاء الشيء على ما كان وهو استصحاب الحال
الهداية (١/٣٨٥)
واذا اضافه الى الشرط وقع عقيب الشرط اتفاقا مثل ان يقول لامراته ان دخلت الدار فانت طالق
الموسوعة الفقهية (١٢/٣٠٠)
يكون التعليق بكل ما يدل على ربط حصول مضمون جملة بحصول مضمون جملة اخرى فقول الزوج لزوجته ان دخلت الدار فانت طالق فقد رتب وقوع الطلاق على دخولها الدار فان دخلت وقع الطلاق والا فلا
و الله اعلم بالصواب
كتبه
المجلس المشترك للإفتاء
بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش