ফিকহ বিবাহ-শাদি

বিবাহের ইজাব কবুলের সময় শরয়ী সাক্ষী তথা দুজন আকেল বালেগ পুরুষ অথবা একজন পুরুষ দুজন মহিলা উপস্থিত আবশ্যক


মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমরা একে অপরে পরিচিত হই এরপর সিদ্ধান্ত নেই বিয়ে করব এরপর বাবা না থাকায় মা আমাদের কাজী অফিস নিয়ে যায়, বলে বিয়ের জন্য আসছি বিয়ে পড়িয়ে দিন, এরপর কাজী আমাকে বলে কালেমা পাঠ শেষে তুমি ছেলের দিকে তাকিয়ে বলো আমি তোমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। আমি কিছুসময় চুপ  আমি বলিনি তোমাকে বিবাহের প্রস্তাব দিলাম। থাকি অতঃপর কাজী ছেলেকে তুমি কবুল বলো তখন ছেলে কবুল বলে।

আমি কবুল বলিনি  আমরা জেনেরাল হওয়ায় ইসলাম সম্পর্কে তেমন নলেজ নাই আমরা সংসার করি তিন বছর।

একদিন হাসবেন্ড বলে যদি তুমি কোন ছেলের সাথে যেনা তো দূরের কথা যদি খারাপ নিয়তে কথাও বলো তবে

(চিরদিনের জন্য হারাম) এ কথার বলার পর সে এই শর্ত তুলে নেয় আমি আমি স্বাভাবিক মানুষের সাথে কথা বলি।

এরপর সে আমাকে তিন তালাক দেয়। এরপর আমি না জানিয়ে ইদ্দত পালন করি। এরপর তিন মাস পর আমার বিয়ে হয়ে যায় এবং কিছুসময় পরে সেই স্বামীর কাছে থেকে চলে আসি এরপর প্রথম স্বামীর সাথে বিবাহ হয় (এইবার একজন হুজুরকে ১ হাজার টাকা দেই সে আমাদের বিবাহ পড়িয়ে দেয় (এই বিয়ের কথা প্রথম স্বামী জানে না) সেখানে আমার মা, বোন, স্বামী আমি ছিলাম সেই হুজুর ভিডিও কলে বিয়ে পড়াই। এরপর এখন সংসার করি একদিন আমরা মুভি দেখছিলাম দেখি রাজার ওয়াইফ যেনা করছে তখন আমি বলি আমি এমন  করলে কি করবা

ও বলে আমি তো একবার বলেই দিচি(কারো সাথে যেনা তো দুরের কথা খারাপ উদ্দেশ্য কথাবললে হারাম)

আমি ওর বললাম নতুন শর্ত নাকি ও বললো না একবারই দিচিলাম নতুন শর্ত না।

 

এখন আামর প্রশ্ন হলো:-

আমাদের প্রথমবার কি বিয়ে হয়েছিলো?

দ্বিতীয়বার কি বিবাহ হয়েছিল?

আমি তো একবার বলছিই এ কথা দ্বারা কি তালাক হয়েছে?

এখন কি আমাদের সম্পর্ক হালাল না হারাম দয়া করে জানাবেন।

এখন কি যদি কারো সাথে কথা বলার  কারণে বর্তমান সমপর্ক কি হালাল আছে?

 

 

নিবেদক,

                                                                                    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক

     লাকসাম-কুমিল্লা

 

 الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب

ইসলামী বিধান মতে বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব ( বিয়ের প্রস্তাব) কবুলের (বিয়ের প্রস্তাব গ্রহণ)  পাশাপাশি  দুইজন  প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ অথবা একজন পুরুষ দুইজন মহিলা সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত থাকা শর্ত। অন্যথায় যদি বিবাহের প্রস্তাব পাওয়া যায় কিন্তু কবুল পাওয়া না যায় অথবা কবুল পাওয়া যায় কিন্তু প্রস্তাব পাওয়া যায় না তাহলে বিবাহ শুদ্ধ হয় না এমনিভাবে  যদি সাক্ষীর ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক  দুইজন পুরুষ অথবা একজন পুরুষ দুইজন মহিলা না হয় বরং সাক্ষীর সংখ্যা কম হয় তাহলে ও বিবাহ শুদ্ধ হয় না।

 

সুতরাং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী প্রথম বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলের পক্ষ থেকে বিবাহের প্রস্তাব কবুল করার বিষয়টি পাওয়া গেলেও যেহেতু আপনার পক্ষ থেকে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বিয়ের  প্রস্তাব পাওয়া যায়নি অথবা বিবাহের প্রস্তাব দেওয়ার জন্য আপনি কাজী কে অকিল ও নিযুক্ত করেন নাই বরং আপনি তখন চুপ ছিলেন  সুতরাং বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার শর্তের এক অংশ তথা কবুল  পাওয়া গেলেও  অপর অংশ তথা বিবাহের প্রস্তাব উক্ত মজলিসে বিদ্যমান না থাকার কারণে আপনাদের বিবাহ শুদ্ধ হয় নাই পাশাপাশি সাক্ষীর শর্তটিও পরিপূর্ণ হয় নাই কেননা সেখানে আপনার মা এবং কাজী সাব সাক্ষী হিসেবে ছিলেন অথচ সাক্ষীর ক্ষেত্রে  দুইজন মহিলার একজন পুরুষ থাকা  শর্ত।

অতএব বিবাহ যেহেতু শুদ্ধ হয় নাই বিধায় আপনাদের উক্ত সংসার  বৈধই হয় নাই।

তেমনি ভাবে দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনার মা এবং বোন দুজন মহিলা  বিবাহের মজলিসে সাক্ষী হিসেবে ছিলেন অথচ  বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য  দুইজন মহিলা সাক্ষী  হিসেবে উপস্থিত থাকা যথেষ্ট নয় বরং সর্বনিম্ন দুইজন মহিলা  সাথে একজন পুরুষ থাকা আবশ্য যা এখানে পাওয়া যায়নি বিধায় আপনাদের দ্বিতীয় বিবাহ ও শুদ্ধ হয়নি  ফলে একসাথে সংসার করা আপনাদের জন্য বৈধ নয়।

প্রথম এবং দ্বিতীয় কোন বিবাহ যেহেতু শুদ্ধ হয় নাই বিধায় স্বামীর দেওয়া শর্ত প্রয়োগ হওয়ার ও সুযোগ নেই।

 

 


الادلة الشرعية

رد المحتار (٤/٩٢)

           وينعقد النكاح بايجاب وقبول وشرط حضور شاهدين


الهداية (٣/٨)

          ولا ينعقد نكاح المسلمين الا بحضور شاهدين حرين عاقلين بالغين مسلمين رجلين او رجل وامراتين ،،،،، اعلم ان الشهادة شرط في باب النكاح


الدر المختار (٤/٧٦)

          من شرائط الايجاب والقبول اتحاد المجلس


بدائع الصنائع في ترتيب الشرائع (٢/٤٨٥)

         اما ركن النكاح فهو الايجاب والقبول

 

و الله اعلم بالصواب

كتبه                 

المجلس المشترك للإفتاء   

بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش


 

০৩ নভেম্বর ২০২৫