ফিকহ বিবাহ-শাদি

মোবাইলে উকিল বানিয়ে বিবাহ


আমি প্রবাসে থাকি। বিয়ের জন্য আমার মামাকে উকিল হিসাবে নিযুক্ত করি। বিয়ের মজলিসে কনের সামনে তার বাবা আমার মামা, আমার ভাই এবং কাজি ছিলেন। মামার এভাবে প্রস্তাব দেন যে - "পানপাড়া নিবাসী জনাব রহিম আহমেদ এর পুত্র সিয়াম আহমেদ কে ৩লক্ষ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করিয়া আপনার বিবাহের জন্য আমাকে উকিল নিযুক্ত করা হইয়াছে। আপনি সিয়াম আহমেদ কে স্বামী হিসাবে কবুল করুন " কনের উত্তর - আলহামদুলিল্লাহ কবুল করিলাম।

আবার কাজি একই সময় আমাকে ভিডিও কল দিয়ে সবার উপস্তিতিতে খুতবা দিয়ে সেইভাবে প্রস্তাব দেন। আমার উত্তর : আলহামদুলিল্লাহ কবুল করিলাম।

প্রেক্ষাপট - ২

যেহেতু দেশে যাওয়া হয় নাই তাই আমাদের মধ্যে শারিরীক সম্পর্ক হয় নাই।  বিবাহের ৪ মাস পর আমাদের বিচ্ছেদ হয়। সবার উপস্তিতিতে ভিডিও কলে আমি তাকে ১ (এক) তালাকে বাইন দেই।

এখন আামর জানার বিষয়,

১ম প্রশ্ন : আমাদের বিবাহ কি সহিহ হয়েছিল?

২য় প্রশ্ন : আমি আবার মহর ধার্য্য করে তাকে পুনরায়  বিবাহ করতে পারব কিনা?

৩য় প্রশ্ন : স্ত্রী তার পূর্বের ভুলের জন্য অনুতপ্ত এবং পুনরায় একই ভুল হবে না বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার জন্য আমার মা কোনভাবেই রাজি নয়। এমতাবস্থায় মায়ের অবাধ্য হওয়া যাবে কিনা? আশা করি এই বিষয়ে লিখিত ফতোয়া কুরআন-সুন্নাহ আলোকে রেফারেন্স সহ পেশ করা হবে।

 

 

নিবেদক,

        তানভীর-প্রবাস

الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب 

হানাফি মাযহাব অনুসারে প্রাপ্ত বয়স্ক-জ্ঞান সম্পন্ন ছেলের অনুপস্থিতে তার নিযুক্ত করা উকিলের মাধ্যমে শরীয়ত সম্মত সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ পড়ানো হলে তা বৈধ হয়। আর বিবাহ পরবর্তী সহবাস পূর্ব এক তালাকে বায়েন পতিত মহিলাকে পূণরায় বিবাহ করতে চাইলে ইদ্দত পালন করা ব্যতীতই নতুন করে মহর নির্ধারণ করে শরয়ী দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ পড়ালে তা বৈধ হয়।

সুতরাং উপরোক্ত প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী, আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার মামাকে উকিল বানিয়ে শরয়ী সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ করানোর দ্বারায় আপনাদের বিবাহ বৈধ হয়েছে।

আর দ্বিতীয়ত বিবাহে আবদ্ধের চার মাস পরবর্তী সহবাস পূর্ব মোবাইলের মাধ্যমে এক তালাকছ বায়েন প্রদান করায় তা তালাকে বায়েন হিসেবেই পতিত হয়েছে। এখন নতুন করে সেই স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে, সহবাস না হওয়ায় ইদ্দত পালন ব্যতীত নতুন মহর নির্ধারণ করে দুজন শরয়ী সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ নবায়ন করলে তা বৈধ হবে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এই স্ত্রীকে কখনো দুই তালাক প্রদান করলেই তার সাথে স্থায়ীভাবে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। তখন এভাবে নতুন বিবাহ করেও একত্রে থাকার সুযোগ থাকবে না।

আর বিবাহের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার অনুমতি ব্যতীত প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে ও মেয়ের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ আছে। সুতরাং সেই মহিলাকে পূণরায় বিবাহের ক্ষেত্রে আপনার মায়ের আপত্তি কোন সমস্যা হবে না।

তবে মা-বাবাকে কষ্ট না দেওয়ার গুরুত্ব শরীয়তে অপরিসীম। তাই মাকে রাজি করিয়েই বিবাহ করা আপনার জন্য কল্যাণকর হবে।

 


الادلة الشرعية


(مسلم شريف : رقم الحديث: ١٤٢١)

                     عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ: الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا

 

(رد المحتار، كتاب النكاح -٤/٧٠)

                     ولو صرح بالتوكيل فقال وكلتك بأن تزوجنى نفسك منى فقالت زوجت صح النكاح

 

(الفتاوى الهندية - ١/٢٦٩)

                     ولو أرسل إليها رسولا، أو كتب إليها بذلك كتابا فقبلت بحضرة شاهدين سمعا كالام الرسول وقراءة الكتاب جاز لاتحاد المجلس من حيث المعنى

 

(تاتارخانية - ٤/١٢٦ ، رقم ٥٧٢٢)

                   ويصح النكاح بالوكالة ... لأنه عقد ينعقد بالرضا والإنابة

 

(بدائع الصنائع-٣/٢٩٥)

                   وأما حكم الطلاق البائن.. هو نقصان عدد الطلاق وزوال الملك أيضا حتى لا يحل له وطوها إلا بنكاح جديد، ...... ولا يحرم حرمة غليظية حتى يجوز له نكاحها من غير أن تتزوج آخر، لأن ما دون الثلاثة، وإن كان بائنا، فإنه يوجب زوال الملك لا زوال حل المحلية.

 

(الفتاوى الهندية-١/٣٤٨)

                   فوقوع الفرقة بانقضاء العدة فى الرجعى، بدونه فى البائن، وزوال حل المناكحة متى تم ثلاثا، كذا فى المحيط البرهانى

 

و الله اعلم بالصواب

كتبه                 

المجلس المشترك للإفتاء   

بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش


 

২৮ অক্টোবর ২০২৫