প্রশ্ন :তালাকে তাফবীয কী? কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করলে এর শরয়ী বিধান কী? স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করার পর তা কি প্রত্যাহার করতে পারে? আর কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারায় শুধু হ্যাঁ লেখা থাকলে স্ত্রী কত তালাকের অধিকারী হবে?
উত্তর : কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারায় স্ত্রীর তালাকের অধিকার ও শরয়ী বিধান
১. স্ত্রীকে তালাকের অধিকার অর্পণের বিধান।
২. তাফবীযকৃত তালাকের অধিকার প্রত্যাহার করার বিধান।
৩. তালাকে তাফবীযের শব্দাবলি ও তার বিভিন্ন প্রকার।
৪. তাফবীযে তালাকের সময়সীমা।
৫. তাফবীযের বিভিন্ন শব্দ অনুযায়ী সংঘটিত তালাকের সংখ্যা ও ধরন।
৬. কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারায় তাফবীযে তালাকের সময়সীমা ও এর প্রয়োগ।
১৮ নং ধারায় সংখা উল্লেখ করা ব্যতীত অধিকারের ক্ষেত্রে স্ত্রী কত তালাকের মালিক হবে।
১.স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিধান।
ফকিহগণ এ ব্যাপারে একমত যে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। এর প্রমাণ হলো জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) এর নিম্নে বর্ণিত ঘটনা।
اتفق الفقهاء على : جواز تفويض الطلاق للزوجة لما روى جابر بن عبد الله قال : دخل أبو بكر يستأذن على رسول الله ﷺ ، فوجد الناس جلوسا ببابه ، لم يؤذن لأحد منهم . قال : فأذن لأبي بكر فدخل، ثم جاء عمر فاستأذن فأذن له، فوجد النبي ﷺ جالسا حوله نساؤه واجما ساكتا ، قال : فقال والله لأقولن شيئا أضحك رسول الله ، فقال : يارسول الله ، لو رأيت بنت خارجة سألتني النفقة فقمت إليها فوجأت عنقها، فضحك رسول الله ﷺ وقال : هن حولي كما ترى يسألنني النفقة فقام أبوبكر إلى عائشة يجأ عنقها، وقام عمر إلى حفصة يجأ عنقها، كلاهما يقول : تسألن رسول الله ﷺ ماليس عنده ! ! فقلن : والله لا نسأل رسول الله شيئا أبدا ليس عنده، ثم اعتزلهن شهرا أو تسعا وعشرين، ثم نزلت عليه الآيات : يا أيها النَّبِي قُلْ لأَزْواجِكَ إن كنتن تردن الحياة الدنيا وزينتها فتَعالَينَ امَتِّعْكُنَّ وأسر حكن سراحاً جميلا، وإن كنتن تردن الله ورسوله والدار الآخرة
فإن الله أعد للمحسنات منكن أجْراً عَظِيماً) قال : فبدأ بعائشة فقال: «يا عائشة» إني أريد أن أعرض عليك أمرا أحب ألا تعجلي فيه حتى تستشيري أبويك ، قالت : وما هو يا رسول الله ؟ فتلا عليها الآية . قالت : أفيك يارسول الله أستشير أبوي ! ! بل أختار الله ورسوله والدار الآخرة، وأسألك ألا تخبر امرأة من نسائك بالذي قلت . قال : لا تسألني امرأة منهن إلا أخبرتها، إن الله لم يبعثني معننا ولا متعنتا، ولكن بعثني معلما ميسرا .
তালাকের ক্ষমতা অর্পণের বিধান
ফকিহগণ একমত যে স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন। এর প্রমাণ হলো জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) এর বর্ণিত একটি ঘটনা।তিনি বলেন একবার আবু বকর (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺএর কাছে প্রবেশের অনুমতি চাইতে এলেন। তিনি দেখলেন কয়েকজন সাহাবি রাসুলুল্লাহ ﷺএর দরজার কাছে বসে আছেন কিন্তু কাউকেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পরে আবু বকর (রা.) কে অনুমতি দেওয়া হলো এবং তিনি ভেতরে প্রবেশ করলেন। এরপর উমর (রা.) এলেন এবং তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো।
উমর (রা.) দেখলেন রাসুলুল্লাহ ﷺবসে আছেন এবং তার স্ত্রীগণ তার চারপাশে বসে আছেন। সবাই নীরব এবং রাসুলুল্লাহ ﷺকিছুটা চিন্তিত অবস্থায় রয়েছেন।উমর (রা.) মনে মনে বললেন আজ এমন কিছু কথা বলব, যাতে রাসুলুল্লাহ ﷺহাসেন। তিনি বললেন হে আল্লাহর রাসুল আপনি যদি দেখতেন আমার স্ত্রী খারিজার কন্যা আমার কাছে খরচের টাকা চেয়েছিল তখন আমি রাগ করে তার ঘাড়ে আঘাত করেছি।এ কথা শুনে রাসুলুল্লাহ ﷺহেসে দিলেন এবং বললেন তুমি যেমন দেখছ এরা সবাই আমার কাছে বসে খরচের জন্য দাবি করছে।তখন আবু বকর (রা.) উঠে গিয়ে তার কন্যা আয়েশা (রা.)-এর ঘাড়ে আঘাত করতে লাগলেন। আর উমর (রা.) উঠে গিয়ে তার কন্যা হাফসা (রা.)-এর ঘাড়ে আঘাত করতে লাগলেন। তাঁরা উভয়েই বলছিলেন তোমরা রাসুলুল্লাহ ﷺএর কাছে এমন কিছু চাইছো যা তার কাছে নেই । তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর স্ত্রীগণ বললেন আল্লাহর কসম এরপর থেকে রাসুলুল্লাহ ﷺএর কাছে এমন কোনো জিনিস আমরা চাইব না যা তাঁর কাছে নেই।এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺতাদের থেকে এক মাসঅথবা ঊনত্রিশ দিন আলাদা থাকলেন। এ সময় আল্লাহ তাআলা এই আয়াতগুলো নাজিল করলেন
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ قُلْ لِأَزْوَاجِكَ إِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا فَتَعَالَيْنَ أُمَتِّعْكُنَّ وَأُسَرِّحْكُنَّ سَرَاحًا جَمِيلًا وَإِنْ كُنْتُنَّ تُرِدْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالدَّارَ الْآخِرَةَ...
অর্থাৎ হে নবী আপনি আপনার স্ত্রীদের বলুনতোমরা যদি পার্থিব জীবন ও তার সৌন্দর্য কামনা করো তাহলে এসো আমি তোমাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে সুন্দরভাবে বিদায় করে দিই। আর যদি তোমরা আল্লাহ তার রাসুল এবং পরকাল কামনা করোএরপর রাসুলুল্লাহ ﷺপ্রথমে আয়েশা (রা.) এর কাছে গেলেন। তিনি বললেনহে আয়েশা আমি তোমার সামনে একটি বিষয় উপস্থাপন করতে চাই। তবে আমি চাই না যে তুমি তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নাও। বরং তোমার মা-বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবে।আয়েশা (রা.) বললেন হে আল্লাহর রাসুল বিষয়টি কী? তখন রাসুলুল্লাহ ﷺতার কাছে আয়াতটি পড়ে শোনালেন।আয়েশা (রা.) সঙ্গে সঙ্গে বললেন এ ব্যাপারে কি আমি আমার মা বাবার সঙ্গে পরামর্শ করব? না বরং আমি আল্লাহ তার রাসুল এবং পরকালকেই বেছে নিলাম।
এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে অনুরোধ করলেন আমার এই সিদ্ধান্তের কথা আপনার অন্য স্ত্রীদের জানাবেন না।
রাসুলুল্লাহ ﷺবললেন তোমাদের কেউ যদি আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তাহলে আমি অবশ্যই তাকে জানাব। কারণ আল্লাহ আমাকে এমন কঠোর বা কষ্টদায়ক আচরণকারী হিসেবে পাঠাননি বরং আমাকে শিক্ষক ও সহজতা সৃষ্টিকারী হিসেবে পাঠিয়েছেন।( আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ ১৩/১১১)
২. তাফবীজকৃত তালাকের অধিকার প্রত্যাহার করার বিধান।
হানাফী মাযহাবের সিদ্ধান্ত এটাই যে স্বামী যখন স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অধিকার দিয়ে দিবে তখন ফিরিয়ে নিতে পারবে না এবং স্ত্রী ফিরিয়ে দিলেও সেটা গ্রহণযোগ্য হবে না বরং অধিকার বহাল থাকবে।
ذهب الحنفية ، والشافعي في الجديد إلى أن التفويض تمليك للطلاق، وعلى هذا قال الحنفية بعدم صحة رجوع الزوج عنه ، وذلك لأن التمليك يتم بالملك وحده بلا توقف على القبول .
হানাফি ফকিহগণ এবং ইমাম শাফেয়ী (রহ.) এর নতুন মত অনুযায়ী তালাকের তাফওয়ীয মূলত স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করে তার মালিক বানিয়ে দেওয়া যাকে আরবিতে تمليك الطلاقবলে ।এ কারণে হানাফি আলেমগণ বলেছেন স্বামী একবার স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দিয়ে দিলে পরে সেই অধিকার ফিরিয়ে নিতে পারবে না। কারণ কাউকে কোনো কিছুর মালিক বানিয়ে দেওয়া সম্পন্ন হওয়ার জন্য তার আলাদা করে গ্রহণ করা জরুরি নয় মালিকানা প্রদান করলেই তা কার্যকর হয়ে যায়।( আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ ১৩/১১১)
৩. তালাকে তাফবীযের শব্দাবলি ও তার বিভিন্ন প্রকার।
ألفاظ التفويض في الطلاق :
۱۱ - ذهب جمهور الفقهاء إلى تقسيم ألفاظ التفويض في الطلاق إلى صريح وكناية فالصريح عندهم ما كان بلفظ الطلاق كطلقي نفسك إن شئت، والكناية ما كان بغيره كاختاري نفسك وأمرك بيدك .
الكناية الخفية. وتفتقر ألفاظ التفويض الكنائية إلى النية بخلاف الصريح منها . (۱)
তালাকের তাফওয়ীযের শব্দাবলি:অধিকাংশ ফকীহ তালাকের তাফওয়ীযের শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন সরীহ (স্পষ্ট) ও কিনায়া (ইঙ্গিতপূর্ণ)।সরীহ হলো যে শব্দে সরাসরি তালাক শব্দ ব্যবহার করা হয়। যেমন স্বামী স্ত্রীকে বলল: «طَلِّقِي نَفْسَكِ إِنْ شِئْتِ»তুমি চাইলে নিজেকে তালাক দিয়ে দাও।আর কিনায়া হলো তালাক শব্দ সরাসরি ব্যবহার না করে অন্য কোনো শব্দের মাধ্যমে তালাকের অধিকার দেওয়া। যেমন اخْتَارِي نَفْسَكِতুমি নিজেকে বেছে নাও এবং أَمْرُكِ بِيَدِكِতোমার বিষয়টি তোমার নিজের হাতে।গোপন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ (কিনায়ায় খফিয়া):তালাকের তাফওয়ীযের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত কিনায়া বা ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দের মাধ্যমে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার প্রদান করলে তা কার্যকর হওয়ার জন্য স্বামীর নিয়ত থাকা জরুরি। পক্ষান্তরে স্পষ্ট (সরীহ) শব্দের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না।( আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ ১৩/১১১)
৪. তাফবীযে তালাকের সময়সীমা।
زمن تفويض الزوجة :
۱۲ - صيغة التفويض إما أن تكون مطلقة ، أو تكون مقيدة بزمن معين، أو تكون بصيغة تعم جميع الأوقات .
(أ) فإن كانت صيغة التفويض مطلقة .
فقد ذهب جمهور الفقهاء إلى أن حق الطلاق للمرأة مقيد بمجلس علمها وإن طال، مالم تبدل مجلسها حقيقة كقيامها عنه، أو حكما بأن تعمل ما يقطعه مما يدل على الإعراض عنه ،
(ب) وإن كانت صيغة التفويض تعم جميع الأوقات فيكون لها حق تطليق نفسها متى شاءت ولا يتقيد بالمجلس .
(جـ) وإن كانت صيغة التفويض مقيدة بزمن معين، فإنه يستمر حق تطليق نفسها إلى أن ينتهي هذا الزمن، ولا يبطل التفويض المؤقت بانتهاء المجلس ولا بالإعراض عنه .
স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার ভাষা বা পদ্ধতি কখনো নির্দিষ্ট সময় ছাড়া সাধারণভাবে হয় কখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হয় আবার কখনো এমন শব্দে বলা হয় যার মাধ্যমে সব সময়ের জন্য তালাকের অধিকার দেওয়া বোঝায়।
(ক) তাফওয়ীযের ভাষা যদি সাধারণ ও সময়সীমাহীন হয়:
অধিকাংশ ফকীহের মতে স্ত্রী যখন তালাকের অধিকার দেওয়ার বিষয়টি জানতে পারবে তখন থেকে সে যে মজলিসে বিষয়টি জানতে পেরেছে সেই মজলিস শেষ হওয়া পর্যন্ত তার তালাক দেওয়ার অধিকার থাকবে যদিও সেই মজলিস দীর্ঘ সময় স্থায়ী হয়। তবে সে যদি বাস্তবে মজলিস ত্যাগ করে চলে যায় যেমন উঠে সেখান থেকে চলে যায় অথবা এমন কোনো কাজ করে যার দ্বারা বোঝা যায় যে সে এ অধিকার গ্রহণের বিষয় থেকে বিমুখ হয়েছে বা তা প্রত্যাখ্যান করেছে তাহলে সেই মজলিসের হুকুম শেষ হয়ে যাবে এবং তার তাফওয়ীযের অধিকারও শেষ হবে।
(খ) তাফওয়ীযের ভাষা যদি সব সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে:তাহলে স্ত্রী যখন ইচ্ছা নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে। এক্ষেত্রে তার তালাক দেওয়ার অধিকার কোনো নির্দিষ্ট মজলিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
(গ) আর যদি তালাকের এই ক্ষমতা (তাফওয়ীয) নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেওয়া হয় তাহলে সেই সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্ত্রী নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার রাখবে। শুধু মজলিস শেষ হয়ে যাওয়া বা স্ত্রী এ অধিকার প্রয়োগ না করে বিষয়টি উপেক্ষা করার কারণে এই সাময়িক তাফওয়ীয বাতিল হয়ে যাবে না।( আলমাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যাহ ১৩/১১৩)
৫. তাফবীযের বিভিন্ন শব্দ অনুযায়ী সংঘটিত তালাকের সংখ্যা ও ধরন।
عدد الطلقات الواقعة بألفاظ التفويض
ونوعها :
١٣ - فرق الحنفية بين التفويض بصريح الطلاق كتابته، فذهبوا إلى أنه إن طلقت الزوجة نفسها بتفويض الزوج لها الطلاق بصريحه، فإن طلاقها يقع طلقة واحدة رجعية، إلا أن يجعل لها أكثر من واحدة، كقوله : طلقي نفسك ماشئت.
وإن كان التفويض بالكناية كقوله : أمرك بيدك أو اختاري نفسك، فاختارت الزوجة الفرقة فإنها تقع طلقة واحدة بائنة بينونة صغرى، إلا أن ينوي الكبرى فتوقعها بلفظها أو بنيتها . وعندهم أن المفيد للبينونة إذا قرن بالصريح صار رجعيا .
وإنما كان الطلاق بائنا في التفويض بالكناية دون الصريح، لأن هذه الألفاظ جواب الكناية والكنايات على أصلهم مبينات ، ولأن قوله : أمرك بيدك جعل أمر نفسها بيدها، فتصير عند اختيارها نفسها مالكة نفسها، وإنما تصير مالكة نفسها بالبائن لا بالرجعي
তাফওয়ীযের বিভিন্ন শব্দের মাধ্যমে কত তালাক সংঘটিত হয় এবং তার ধরন : হানাফি ফকিহগণ তালাকের স্পষ্ট শব্দে (صريح) এবং ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দে (كناية) তালাকের অধিকার অর্পণ করার মধ্যে পার্থক্য করেছেন।
যদি স্বামী স্ত্রীকে স্পষ্ট ভাষায় তালাক দেওয়ার ক্ষমতা প্রদান করেন এবং স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে নিজেকে তালাক দেন তাহলে সাধারণভাবে এক তালাক রজঈ সংঘটিত হবে। তবে স্বামী যদি একাধিক তালাক দেওয়ার ক্ষমতা দেন যেমন তুমি যত তালাক ইচ্ছা নিজেকে দিতে পারো তাহলে সে অনুযায়ী একাধিক তালাক দেওয়ার অধিকার তার থাকবে।আর যদি স্বামী ইঙ্গিতপূর্ণ বা কিনায়া শব্দে তালাকের ক্ষমতা দেন যেমন তোমার ব্যাপার তোমার হাতে (أمرك بيدك) অথবা তুমি নিজেকে নির্বাচন করো (اختاري نفسك) তখন স্ত্রী যদি নিজের বিচ্ছেদকে নির্বাচন করে তাহলে এক তালাক বায়েন সংঘটিত হবে অর্থাৎ বায়েন সুগরা। তবে স্বামী যদি তালাক বায়েন কুবরা র নিয়ত করে থাকেন তাহলে তার নিয়ত অনুযায়ী বায়েন কুবরা সংঘটিত হবে তথা তিন তালাক পতিত হয়ে যাবে।
হানাফিদের মতে যে শব্দের দ্বারা সাধারণত তালাক বায়েন হয় সেটি যদি স্পষ্ট তালাকের শব্দের সঙ্গে যুক্ত করা হয় তাহলে তালাকটি রজঈ হয়ে যায়।কিন্তু তাফওয়ীযের ক্ষেত্রে কিনায়া শব্দে বায়েন তালাক হওয়ার কারণ হলো এসব শব্দ মূলত কিনায়ারই অন্তর্ভুক্ত আর হানাফি মূলনীতিতে কিনায়া শব্দ দ্বারা তালাক হলে তা বায়েন হয়।
আর তোমার ব্যাপার তোমার হাতে (أمرك بيدك) বলার অর্থ হলো স্বামী স্ত্রীকে তার নিজের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে দিলেন। ফলে স্ত্রী যখন নিজেকে নির্বাচন করে তখন সে নিজের ওপর এমনভাবে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে যে সে নিজের বিচ্ছেদের মালিক হয়ে যায়। আর হানাফি ফিকহ অনুযায়ী স্ত্রী নিজের ব্যাপারে এই ধরনের পূর্ণ কর্তৃত্ব তালাক বায়েনের মাধ্যমে লাভ করে তালাক রাজঈর মাধ্যমে নয়।
৬. কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারায় তাফবীযে তালাকের সময়সীমা ও এর প্রয়োগ।
এ ব্যাপারে স্পষ্ট কথা হলো স্বামী যদি স্ত্রীকে নিজের ওপর তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে দেয় তাহলে স্ত্রী নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার পেয়ে যাবে ।স্বামী যদি কাবিননামা ১৮ নং ধারায় এই অধিকার চিরস্থায়ীভাবে দিয়ে দেয় তাহলে স্ত্রী সবসময়ই এই অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে । কিন্তু স্বামী যদি চিরস্থায়ীভাবে দেওয়ার কথা স্পষ্ট না করে শুধু সাধারণভাবে তালাকের অধিকার দিয়ে দেয় তাহলে মূল নিয়ম অনুযায়ী স্ত্রী শুধু যে বৈঠকে বা সময়ে তাকে এই অধিকার দেওয়া হয়েছে সেই মজলিস পর্যন্তই তা ব্যবহার করতে পারবে। সেই মজলিস শেষ হয়ে গেলে তার এই অধিকারও শেষ হয়ে যাবে।তবে যেহেতু নিকাহনামায় স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার বিষয়টি একটু ভিন্ন। কারণ সাধারণত নিকাহনামায় স্ত্রী এই অধিকার দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় যেন সে এই অধিকার ব্যবহার করতে পারে। প্রচলিত সামাজিক রীতিতেও মানুষ নিকাহনামায় এ ধরনের অধিকারকে স্থায়ী অধিকার হিসেবেই বোঝে। তাই নিকাহনামায় ব্যবহৃত শব্দগুলো বাহ্যিকভাবে সাধারণ বা শর্তহীন হলেও সামাজিক প্রচলনের কারণে এর দ্বারা স্ত্রী স্থায়ীভাবে নিজেকে তালাক দেওয়ার অধিকারী হবে। সে প্রয়োজনের সময় যেকোনো মুহূর্তে এই অধিকার প্রয়োগ করে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে।
৭. ১৮ নং ধারায় সংখা উল্লেখ করা ব্যতীত অধিকারের ক্ষেত্রে স্ত্রী কত তালাকের মালিক হবে।
প্রশ্ন : স্বামী যদি স্ত্রীকে প্রচলিত কাবিননামার ১৮ নং ধারায় তালাকের অধিকার দিয়ে থাকে কিন্তু তুই নিজের উপর কত তালাক গ্রহণ করতে পারবে সেই সংখ্যা উল্লেখ না করে তাহলে স্ত্রী তালাক কয়টি তালাকের মালিক হবে।
উত্তর : প্রচলিত কাবিননামার 18 নং ধারায় স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের সংখ্যা উল্লেখ না করে বরং সাধারণভাবে তালাকের অধিকার দিয়ে দেয় যেমন 18 নং ধারায় যদি শুধু হ্যা লেখা থাকে অথবা তালাক গ্রহনের অধিকার দেওয়া হলো এ ধরনের কথা উল্লেখ করা হয় অথবা কোন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয় কিন্তু তালাকের সংখ্যা উল্লেখ করা না থাকে তাহলে এ সকল ক্ষেত্রে স্ত্রী নিজের উপর এক তালাকে রাজয়ী গ্রহণ করিতে পারবে। এক্ষেত্রে স্ত্রী তিন তালাক গ্রহণ করলেও এক তালাক গ্রহণযোগ্য হবে এবং এটি রাজয়ী হিসেবে গণ্য হবে বিধায় স্বামী চাইলে ইদ্দতের ভিতর মৌখিক অথবা কর্মগতভাবে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবে অথবা ইদ্দতের পর উভয়ের সন্তুষ্টিতে সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন মোহরের মাধ্যমে পুনরায় উভয়জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করতে পারবে। আল-বাহরুর রায়িক গ্রন্থে সুস্পষ্টভাবে একথা বলা হয়েছে যে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যা যদি উল্লেখ না করে তাহলে স্ত্রী এক তালাকে রাজয়ীর মালিক হবে।
নিম্নে সেই বক্তব্য উল্লেখ করা হলো
البحر الرائق: (٣/٣٣٦ دار الكتاب الإسلامي)
وقيد باقتصاره على التخيير المطلق لأنه لو قال لها اختاري الطلاق فقالت اخترت الطلاق فهي واحدة رجعية لأنه لما صرح بالطلاق فقد خيرها بين نفسها بتطليقة واحدة رجعية وبين ترك التطليقة وكذا في قوله: أمرك بيدك كذا في البدائع وهو مستفاد من قول المصنف آخر الباب اختاري تطليقة أو أمرك بيدك في تطليقة،
এখানে লেখক শুধু নিঃশর্তভাবে স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। কারণ স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে “তুমি তালাক গ্রহণ করবে কি না তা তুমি নিজেই ঠিক করো”এরপর স্ত্রী বলে “আমি তালাক গ্রহণ করলাম” তাহলে এক তালাকে রাজয়ী সংঘটিত হবে।এর কারণ হলো স্বামী যখন সরাসরি তালাকের কথা উল্লেখ করেছে তখন সে স্ত্রীকে মূলত দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন।
১. এক তালাক গ্রহণ করা অথবা
২. তালাক গ্রহণ না করে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল রাখা।
অনুরূপভাবে স্বামী যদি বলেন “তোমার ব্যাপার তোমার হাতে” (أمرك بيدك) তাহলেও একই হুকুম প্রযোজ্য। এ বিষয়টি বাদায়েউস সানায়েতেও উল্লেখ করা হয়েছে।\ আর গ্রন্থকারের শেষ অধ্যায়ে বলা “এক তালাক বেছে নাও” (اختاري تطليقة) অথবা “তোমার ব্যাপার এক তালাকের ক্ষেত্রে তোমার হাতে” أمرك بيدك في تطليقةএই বক্তব্য থেকেও একই বিষয় স্পষ্ট হয়।এমনিভাবে বাদায়িউস সানায়ে গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে
যার সার সংক্ষেপ হলো সংখ্যা উল্লেখ ছাড়া স্বামী স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অধিকার দিলে স্ত্রী এক তালাকের অধিকার পাবে নিম্নে বাদায়িউস সানায়ে এর বক্তব্য উল্লেখ করা হলো
بدائل الصنايع (٦١٢١/دار الكتب العلمية)
ولو قال لها: أنت طالق إذا شئت أو إذا ما شئت أو متى شئت أو متى ما شئت فلها أن تطلق نفسها في أي وقت شاءت في المجلس أو بعده وبعد القيام عنه لما مر، وليس لها أن تطلق نفسها إلا واحدة؛ لأنه ليس في هذه الألفاظ ما يدل على التكرار على ما مر."
স্বামী যদি স্ত্রীকে বলে তুমি যখন চাইবে তখনই তুমি তালাকপ্রাপ্তা অথবা তুমি যদি চাও তাহলে তালাকপ্রাপ্তা কিংবা তুমি যখনই চাইবে তখন তালাকপ্রাপ্তা অথবা তুমি যখনই চাইবে তখনই তালাকপ্রাপ্তা তাহলে স্ত্রী যে কোনো সময় নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে। সে স্বামী স্ত্রী একই মজলিসে থাকা অবস্থায়ও নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে আবার মজলিস শেষ হয়ে যাওয়ার পর কিংবা সেখান থেকে উঠে যাওয়ার পরও তা করতে পারবে। কারণ এ বিষয়ে পূর্বে যে নিয়ম আলোচনা করা হয়েছে এখানেও সেটিই প্রযোজ্য।
তবে স্ত্রী শুধু এক তালাকই নিজের ওপর কার্যকর করতে পারবে। একাধিকবার তালাক কার্যকর করার অধিকার তার থাকবে না। কারণ উল্লিখিত বাক্যগুলোর মধ্যে এমন কোনো শব্দ নেই যা বারবার তালাক কার্যকর করার অধিকারকে বোঝায়।
এমনিভাবে পাকিস্তানের প্রখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া বানুরি টাউন এর ফাতাওয়া বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়ায় স্পষ্টভাবে একথা উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বামী যদি তালাক গ্রহণের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোন ধরনের সংখ্যা উল্লেখ না করে তাহলে স্ত্রী এক তালাকে রাজয়ীর মালিক হবে।
নিম্নে সেই ফতোয়া যুক্ত করা হলো
سوال
زید اور زہرہ کی یورپ میں شادی ہوئی اور نکاح نامہ میں شق ہونے کی وجہ سے زید نے زہرہ کو حق طلاق دے دیا ۔ اب زید پاکستان آگیا ہے اور زہرہ کو بھی پاکستان منتقل ہونے کو کہہ رہا ہے لیکن زہرہ اور اس کے والدین اس بات پر راضی نہیں ، اور کافی عرصہ گزر جانے کی وجہ سے اب زید سے طلاق کا مطالبہ کر رہے ہیں جس پر زید راضی نہیں ہو رہا ۔ پوچھنا یہ تھا کہ زہرہ کو حاصل شدہ حقِ طلاق کو استعمال کرتے ہوئے کیا زہرہ اپنے اوپر طلاق واقع کر کے عدت پوری کرنے کے بعد یورپ میں ہی کسی اور آدمی سے نکاح کر سکتی ہے ؟
جواب
شوہر اگر بیوی کواپنے اوپر طلاق واقع کرنے کا اختیار دے دے تو بیوی کو اپنے اوپر طلاق واقع کرنے کااختیار حاصل ہوجاتا ہے، اور بیوی اپنے اوپر طلاق واقع کرکے عدت گزار کر دوسری جگہ نکاح کرنا چاہے تو کرسکتی ہے۔
لیکن شوہر نے کس قسم کی طلاق کا اختیار دیا تھا ؟ اس کے لیے کیا الفاظ استعمال کیے تھے؟ آیا کسی شرط کے ساتھ اختیار دیا یا بغیر شرط کے؟ یہ سب باتیں متعلقہ مسئلہ کے حکم میں بڑی اہمیت کی حامل ہیں، ان سے مسئلہ کے حکم میں تبدیلی بھی آتی ہے، لہذا آپ ان باتوں کی وضاحت کرکے دوبارہ مسئلہ کا حکم معلوم کرلیجیے۔
مختصراً یہ کہ اگر صرف طلاق کا حق دیا ہے اور طلاق کی تعداد اور کسی صفت کاذکر نہیں ہے تو بیوی کو اپنے اوپر صرف ایک طلاق رجعی واقع کرنے کا حق ہوگا اور عدت کے اندر شوہر چاہے تو رجوع کرسکے گا۔فقط واللہ اعلم
যায়েদ ও জোহরার ইউরোপে বিয়ে হয়। বিয়ের কাবিননামায় একটি শর্ত থাকার কারণে যায়েদ তার স্ত্রী জোহরাকে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার (তাফওয়ীযে তালাক) দিয়ে দেয়।পরবর্তীতে যায়েদ পাকিস্তানে চলে আসে এবং জোহরাকেও পাকিস্তানে চলে আসতে বলে। কিন্তু জোহরা ও তার বাবা-মা এতে রাজি নন। এভাবে বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তারা যায়েদের কাছে তালাক দাবি করেন। কিন্তু যায়েদ তালাক দিতে রাজি হচ্ছে না।
প্রশ্ন হলো জোহরাকে যেহেতু নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার দেওয়া হয়েছে তাই সে কি সেই অধিকার ব্যবহার করে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে? এরপর ইদ্দত পূর্ণ করে ইউরোপেই অন্য কোনো পুরুষকে বিয়ে করতে পারবে কি?
উত্তর :স্বামী যদি স্ত্রীকে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার দিয়ে দেয় তাহলে স্ত্রী সেই অধিকার প্রয়োগ করে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে। এরপর ইদ্দত পূর্ণ করার পর চাইলে অন্য কোনো পুরুষকে বিয়েও করতে পারবে।তবে এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বামী স্ত্রীকে কী ধরনের তালাকের অধিকার দিয়েছিল এবং ঠিক কী শব্দে সেই অধিকার দিয়েছিল? সে কি কোনো শর্তের সঙ্গে এই অধিকার দিয়েছিল নাকি কোনো শর্ত ছাড়াই দিয়েছিল? এসব বিষয়ের ওপর মাসআলার হুকুম নির্ভর করে এবং এগুলোর কারণে হুকুমের পরিবর্তনও হতে পারে। তাই এসব বিষয় স্পষ্ট করে পুনরায় মাসআলার হুকুম জেনে নেওয়া উচিত।
সংক্ষেপে: যদি স্বামী শুধু স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার দিয়ে থাকে এবং তালাকের সংখ্যা বা কোনো বিশেষ ধরন উল্লেখ না করে থাকে তাহলে স্ত্রী নিজের ওপর শুধু এক তালাকে রাজয়ী কার্যকর করতে পারবে। এরপর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী চাইলে তাকে রুজু করতে পারবে।
(ফতোয়া নাম্বার 144001200295)ফাতাওয়া বিভাগ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া বানুরিটাউন পাকিস্তান)
এমনিভাবে বানুরি টাউনের ফাতাওয়া বিভাগ থেকে প্রকাশিত একটি ফতোয়াতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে স্বামী কর্তৃক কাবিন নামার তাফবীজে তালাকের ধারায় শুধু হ্যা সূচক উত্তর লিখলে ও স্ত্রী মাত্র এক তালাকে রাজয়ী গ্রহনের অধিকার পাবে।
নিম্নে ফতোয়াটি উল্লেখ করা হলো
سوال
شوہر نے بیوی کو نکاح کے وقت کسی شرط کے بیان کیے بغیر طلاق کا حق تفویض کیا تھا، جیسا کہ منسلکہ طلاق نامہ میں درج ہے کہ "آیا شوہر نے طلاق کا حق بیوی کو تفویض کردیا ہے: جی ہاں"
جو کہ بیوی نے چھ سال بعد تحریری طور پر اپنے اوپر تین طلاقیں واقع کرکے تفویض کا حق استعمال کیا ہے۔بیوی کی تحریر درج ذیل ہے:
"having exercised the delegated powers of divorce i.e. Talaq-e-Tafweez, in presence of witnesses cited herein below I, hereby declare DIVORCE - DIVORCE -DIVORCE thrice irrevocably upon myself."
دوران عدت شوہر اور بیوی کے درمیان ازدواجی تعلق قائم ہوا ۔ اب عدت کے ختم ہونے کے بعد بیوی کو پتا چلا کہ وہ حاملہ ہے۔ جب یہ بات بیوی نے اپنے شوہر کو بتائی تو شوہر نے اس بچہ کو قبول کرنے سے منع کیا، اور بیوی کو کہا کہ اس حمل کو ضایع کردو۔ حمل کی مدت ایک مہینے سے کم بتائی جا رہی ہے ۔ مذکورہ صورت حال میں درج ذیل سوالات کا حل مطلوب ہے ۔
1۔ کیا طلاق واقع ہو گئی ؟
2۔ تین طلاق کے بعد عدت میں ازدواجی تعلق کی کیا حیثیت ہے؟
3۔ اس حمل کے بارے میں کیا حکم ہے ؟ کیا اسکو ضایع کیا جاسکتا ہے؟
4۔ حمل کو باقی رکھا جاتا ہے ، تو اس دوران طلاق کا کیا حکم ہے؟
5۔ اس بچہ کی ولدیت بارے میں کیا حکم ہے؟
5۔پیدائش کے بعد بچہ کے نفقہ کے بارے میں کیا حکم ہے؟
جواب
1۔ نکاح کے موقع پر دولہن کی جانب سے تفویض طلاق کی شرط پر اگر نکاح ہوا ہے، اور دولہا نے مذکورہ شرط کو قبول کیا ہو، تو اس صورت میں نکاح کے بعد بیوی جب چاہے اپنے اوپر طلاق واقع کرنے کی شرعا حقدار ہوتی ہے، تاہم مطلق تفویض کی صورت میں بیوی کو صرف ایک طلاق واقع کرنے کا شرعا اختیار ہوتا ہے، ایک سے زائد طلاق واقع کرنے کی صورت میں زائد طلاق شرعا واقع نہیں ہوتیں، لہذا صورت مسئولہ میں نکاح کے چھ سال بعد بیوی نے تحریری طور پر جب اپنے اور سوال میں درج جملے سے طلاق واقع کی ، تو اس سے بیوی پر صرف ایک طلاق رجعی واقع ہوگی، البتہ دوسری اور تیسری طلاقیں واقع نہیں ہوں گی،اور دوران عدت چونکہ میاں بیوی کے درمیان ازدواجی تعلق قائم ہوتا رہا، جس کی وجہ سے رجوع ہوگیا ہے، اور نکاح بدستور قائم ہے، مذکورہ خاتون کے لیے کسی اور شخص سے نکاح کرنا جائز نہیں ہے، اور آئندہ کے لیے شوہر کے پاس صرف دو طلاق کا حق ہوگا۔
2۔ مسئولہ صورت میں چونکہ بیوی پر ایک طلاق رجعی واقع ہوئی تھی، جس کی بناء پر شوہر کے لیے عدت کے دوران بیوی سے رجوع کرنا جائز تھا، لہذا عدت کے دوران جو ازدواجی تعلق قائم ہوا، وہ جائز تھا۔
3۔ مذکورہ حمل حلال ہے، لہذا اسے ضائع کرنا جائز نہیں ہے۔
4۔ مسئولہ صورت میں حمل گرانا جائز نہیں ہے، بیوی نے جو اپنے اوپر تین طلاقیں واقع کی تھیں، ان میں سے صرف ایک طلاق واقع ہوئی تھی، بقیہ دو طلاقیں شرعا معتبر نہیں ہوں گی، مذکورہ ازدواجی تعلق کی وجہ سے جو حمل ہوا ہے، وہ جائز ہے۔
5۔ پیدا ہونے والا بچہ کا نسب مذکورہ شخص سے ثابت ہوگا۔
6۔ پیدائش کے بعد بچہ کا نفقہ والد ( مذکورہ شخص) پر لازم ہوگا۔
প্রশ্ন
বিবাহের সময় স্বামী স্ত্রীকে কোনো শর্ত উল্লেখ না করেই তালাকের অধিকার প্রদান করেন। সংযুক্ত তালাকনামায় এভাবে উল্লেখ রয়েছে “স্বামী কি স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করেছেন? জবাবে হ্যাঁ বলে তালাকের অধিকার দেয়া হয়েছে ”বিবাহের ছয় বছর পর স্ত্রী ঐ ক্ষমতা প্রয়োগ করে লিখিতভাবে নিজের ওপর তিন তালাক ঘোষণা করেন। তার লিখিত বক্তব্য ছিল:“আমি আমাকে অর্পিত তালাকের ক্ষমতা তথা তালাকে তাফওয়ীয প্রয়োগ করে নিম্নে উল্লেখিত সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নিজের ওপর পরপর তিন তালাক ঘোষণা করছি।”এরপর তালাকের ইদ্দত চলাকালীন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্ত্রী জানতে পারেন যে তিনি গর্ভবতী। বিষয়টি স্বামীকে জানালে তিনি সন্তানটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং স্ত্রীকে গর্ভপাত করার নির্দেশ দেন। বর্তমানে গর্ভের বয়স এক মাসেরও কম বলে জানা যাচ্ছে।
এ অবস্থায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর শরয়ি সমাধান জানতে চাওয়া হয়েছে
১. তালাক কি সংঘটিত হয়েছে?
২. তিন তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের হুকুম কী?
৩. গর্ভের সন্তানের ব্যাপারে শরিয়তের হুকুম কী? গর্ভপাত করা যাবে কি?
৪. গর্ভ রাখা হলে এ অবস্থায় তালাকের কী হুকুম হবে?
৫. জন্মগ্রহণকারী সন্তানের পিতৃত্ব কার সঙ্গে সাব্যস্ত হবে?
৬. সন্তান জন্মের পর তার ভরণ পোষণের দায়িত্ব কার ওপর থাকবে?
উত্তর
১. তালাক সংঘটিত হওয়ার হুকুম।
বিবাহের সময় যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার অধিকার প্রদানের শর্তে বিবাহ সম্পন্ন হয় এবং স্বামী সেই শর্ত গ্রহণ করে থাকেন তাহলে বিবাহের পর স্ত্রী যখন ইচ্ছা অর্পিত সেই ক্ষমতা অনুযায়ী নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারেন।তবে স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনো শর্ত বা সীমা নির্ধারণ না করে সাধারণভাবে তালাকের অধিকার প্রদান করেন তাহলে স্ত্রী শরিয়ত অনুযায়ী নিজের ওপর শুধু একটি তালাক কার্যকর করার অধিকার রাখেন। তিনি একাধিক তালাক দিলে অতিরিক্ত তালাকগুলো শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয় না।অতএব প্রশ্নে বর্ণিত ঘটনায় বিবাহের ছয় বছর পর স্ত্রী লিখিতভাবে নিজের ওপর তিন তালাক ঘোষণা করলেও তার দ্বারা শুধু একটি তালাকে রাজয়ী সংঘটিত হয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাক সংঘটিত হয়নি।আর যেহেতু ঐ তালাকের ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে তাই এর মাধ্যমে রুজু হয়ে গেছে এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুনরায় বহাল হয়ে গেছে।
সুতরাং ঐ নারী অন্য কোনো পুরুষকে বিবাহ করতে পারবেন না। ভবিষ্যতে তার স্বামীর হাতে আরও দুই তালাকের অধিকার অবশিষ্ট থাকবে।
২. ইদ্দতের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কের হুকুম
প্রশ্নে উল্লিখিত অবস্থায় যেহেতু স্ত্রীর ওপর মাত্র একটি তালাকে রাজয়ী সংঘটিত হয়েছিল তাই তার ইদ্দতের মধ্যে স্বামীর জন্য স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ ছিল। আর দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে রুজুও সংঘটিত হয়ে গেছে।অতএব ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর যে দাম্পত্য সম্পর্ক হয়েছে তা জায়েজ ছিল এবং এর মাধ্যমে রুজু হয়ে গেছে।
৩. গর্ভের সন্তানের হুকুম।
ইদ্দতের মধ্যে বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে যে গর্ভধারণ হয়েছে তা বৈধ গর্ভ। অতএব এই গর্ভ নষ্ট করা বা গর্ভপাত করা জায়েজ নয়।গর্ভের বয়স এক মাসেরও কম হলেও প্রশ্নে বর্ণিত পরিস্থিতিতে তা নষ্ট করার অনুমতি নেই।
৪. গর্ভ রেখে দিলে তালাকের হুকুম।
এই গর্ভপাত করা কোনোভাবেই জায়েজ নয়। কারণ স্ত্রী নিজের ওপর যে তিন তালাক ঘোষণা করেছিলেন তার মধ্যে শুধু একটি তালাক কার্যকর হয়েছে এবং বাকি দুটি তালাক শরিয়তসম্মতভাবে কার্যকর হয়নি।পরবর্তীতে ইদ্দতের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমে রুজু হয়ে গেছে। ফলে তাদের বিবাহ বহাল রয়েছে। সেই বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের মাধ্যমেই যেহেতু গর্ভধারণ হয়েছে তাই গর্ভটি বৈধ এবং তা নষ্ট করা যাবে না।
৫. সন্তানের পিতৃত্বের হুকুম
উক্ত গর্ভ থেকে যে সন্তান জন্মগ্রহণ করবে তার নসব ও পিতৃত্ব ওই স্বামীর সঙ্গেই সাব্যস্ত হবে।স্বামী সন্তানটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলেও এর দ্বারা শরিয়তসম্মতভাবে তার পিতৃত্ব বাতিল হবে না।
৬. সন্তানের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব
সন্তান জন্মগ্রহণের পর তার ভরণ-পোষণের যাবতীয় দায়িত্ব তার পিতা অর্থাৎ উক্ত স্বামীর ওপরই বর্তাবে।
( ফতোয়া নাম্বার 144603102087ফাতাওয়া বিভাগ জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া বানুরী টাউন পাকিস্তান)
উপসংহার :
উপরোক্ত আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে তালাকে তাফবীয শরিয়তসম্মত একটি বিধান যার মাধ্যমে স্বামী স্ত্রীকে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করার অধিকার অর্পণ করতে পারেন। হানাফি মাযহাব অনুযায়ী এ অধিকার একবার যথাযথভাবে অর্পণ করা হলে সাধারণভাবে স্বামী তা প্রত্যাহার করতে পারে না।তাফবীযের হুকুম নির্ধারণে ব্যবহৃত শব্দ তালাকের সংখ্যা সময়সীমা এবং অর্পণের ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাফবীয যদি সাধারণভাবে দেওয়া হয় এবং কোনো সংখ্যা উল্লেখ না থাকে তাহলে স্ত্রী সাধারণত এক তালাকে রাজয়ী নিজের ওপর কার্যকর করতে পারবেন। পক্ষান্তরে একাধিক তালাকের অধিকার স্পষ্টভাবে প্রদান করা হলে তার বিধান ভিন্ন হবে।তাফবীযের সময়সীমার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত শব্দ অনুযায়ী হুকুম পরিবর্তিত হয়। স্থায়ীভাবে বা সর্বকালীনভাবে অধিকার দেওয়া হলে স্ত্রী পরবর্তীতে যেকোনো সময় তা প্রয়োগ করতে পারবেন। আর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাফবীয করা হলে নির্ধারিত সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে অধিকার বহাল থাকবে। কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারার ক্ষেত্রে তাফবীযে তালাকের প্রকৃত হুকুম নির্ধারণের জন্য সেখানে ব্যবহৃত শব্দ শর্ত এবং স্বামীর পক্ষ থেকে কী পরিমাণ তালাকের অধিকার অর্পণ করা হয়েছেএসব বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। শুধু ‘হ্যাঁ’ লিখিত থাকা বা সাধারণভাবে তালাকের অধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সংখ্যা উল্লেখ না থাকলে স্ত্রী এক তালাকে রাজয়ীর অধিকারী হবেন এ মর্মে হানাফি ফিকহের কিতাবসমূহ এবং বানুরি টাউনের ফতোয়াতেও নির্দেশনা পাওয়া যায়।অতএব কাবিননামার ১৮ নম্বর ধারায় শুধু তাফবীযের উল্লেখ থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিন তালাকের অধিকার প্রমাণিত হয় না বরং দলিলের সঠিক শব্দাবলি তাফবীযের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি যাচাই করে শরয়ী হুকুম নির্ধারণ করতে হবে।তবে নিকাহনামায় স্ত্রীকে দেওয়া তালাকের অধিকারের ক্ষেত্রে যদি সময়সীমা উল্লেখ না থাকে বরং স্বাভাবিকভাবে তালাক গ্রহনের অধিকার দেওয়া হয় স্ত্রীকে তাহলে ও সেই অধিকার দীর্ঘস্থায়ী হবে কারণ সাধারণত নিকাহনামায় স্ত্রীকে এই অধিকার দেয়ার উদ্দেশ্যই হলো প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে যেকোনো সময় যেন সে এই অধিকার ব্যবহার করতে পারে। প্রচলিত সামাজিক রীতিতেও মানুষ নিকাহনামায় এ ধরনের অধিকারকে স্থায়ী অধিকার হিসেবেই বোঝে। তাই নিকাহনামায় ব্যবহৃত শব্দগুলো বাহ্যিকভাবে সাধারণ বা শর্তহীন হলেও সামাজিক প্রচলনের কারণে এর দ্বারা স্ত্রী স্থায়ীভাবে নিজেকে তালাক দেওয়ার অধিকারী হবে। সে প্রয়োজনের সময় যেকোনো মুহূর্তে এই অধিকার প্রয়োগ করে নিজের ওপর তালাক কার্যকর করতে পারবে।
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুঈনুল ইসলাম সিলেটি
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মাহাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা