নাবালেগ বুঝদার বালক উপস্থিত থাকলে
তাকে পুরুষদের কাতার থেকে পৃথক করে একা দাড় করানো শরীয়ত সম্মত নয় । বরং তাকে প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লিদের কাতারেই অন্তর্ভুক্ত করে দাড় করানোই সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি । তাই আমাদের সমাজে প্রচলিত যে ঘৃণিত পদ্ধতি রয়েছে যে নাবালেগ বালককে কেবল বালক হওয়ার কারণে পুরুষদের কাতার থেকে সরিয়ে দেওয়া অথবা কাতার থেকে পিছনে সরানো হয় এটা কখনো ঠিক নয় ।
এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে আল- বাহরুর রায়িক কিতাবে বর্ণিত হয়েছে
وظاهر حديث أنس أنه يسوي بين الرجل والصبي ويكونان خلفه فإنه قال : فصفقت أنا واليتيم وراءه والعجوز من ورائنا ويقتضي أيضاً أن الصبي الواحد لا يكون منفرداً عن صف الرجال بل يدخل في صفهم،
হযরত আনাস রাযিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীসের বাহ্যিক অর্থ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে শরীয়ত একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও একজন নাবালেগ বালককে একই কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সমান বিধান দিয়েছে। কারণ হযরত আনাস (রাঃ) বলেন আমি এবং এতিম বালকটি রাসূলুল্লাহ ﷺএর পেছনে একই কাতারে দাড়িয়েছিলাম আর বৃদ্ধা মহিলা আমাদের পেছনে পৃথক কাতারে দাড়িয়েছিলেন।
এ হাদীস থেকে আরও প্রতীয়মান হয় যে যদি একজন মাত্র বালক উপস্থিত থাকে তবে তাকে পুরুষদের কাতার থেকে আলাদা করে একাকী দাড় করানো সুন্নাহসম্মত নয় বরং তাকে পুরুষদের কাতারেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে এবং তাদের সঙ্গেই দাড় করানো হবে।
।( আল বাহরুর রায়িক ১/৬১৮/আশরাফিয়া)
আদ্দুরুল মুখতার এর বক্তব্য
ویصف الرجال ثم الصبیان الخ (ویصف) أي: یصفھم الإمام بأن یأمرھم بذلک،… ( ثم الصبیان) ظاھرہ تعددھم، فلو واحداً دخل الصف
প্রথমে পুরুষদের কাতার সাজানো হবে এরপর বালকদের কাতার সাজানো হবে। এর অর্থ হলো ইমাম তাদেরকে এভাবে কাতারবদ্ধ হওয়ার নির্দেশ দেবেন।
এরপর বালকদের কাতার এই বক্তব্য থেকে বাহ্যত একাধিক বালক বোঝানো হয়েছে। তাই যদি বালক মাত্র একজন হয় তাহলে তাকে আলাদা কাতারে দাড় করানো হবে না বরং তাকে পুরুষদের কাতারের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ( আদ্দুরুল মুখতার ২/৩৭৭/রিসালা)
. সামনের কাতার থেকে পিছনে আসার বৈধ পদ্ধতি।
মসজিদ আল্লাহর ঘর সেখানে প্রত্যেকের অধিকার রয়েছে যে সে যেকোনো কাতারে দাড়াতে পারে এবং তাকে সেখান থেকে সরানোর কোন অধিকার ইসলাম কাউকে দেয় নাই তবে যদি কোন ব্যক্তি চায় সে অপ্রাপ্তবয়স্ক বুঝদার বালক হোক অথবা প্রাপ্তবয়স্ক কোন পুরুষ সে যদি অন্যের সম্মানার্থে পিছনের কাতারে চলে আসে তাহলে সেটা বৈধ আছে এবং তা একটি উত্তম কাজ হিসেবে গণ্য হবে।
মিনহাতুল খালেক এর বক্তব্য
وإن سبق أحد بالدخول إلى المسجد مكانه في الصف الأول فدخل رجل أكبر منه سناً أو أهل علم ينبغي أن يتأخر ويقدمه تعظيماً له اهـ . قال : فهذا مفيد الجواز الإيثار في القرب عملاً بعموم قوله تعالى ويؤثرون على انفسهم ولو كان بهم خصاصة
কোনো ব্যক্তি যদি আগে মসজিদে এসে প্রথম কাতারে একটি স্থান গ্রহণ করে এরপর তার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ বা কোনো আলেম ব্যক্তি এসে উপস্থিত হন তাহলে তাদের সম্মানার্থে নিজের স্থান ছেড়ে দিয়ে তাদের সেখানে দাড়ানোর সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
লেখক বলেন এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে নেক কাজ ও ইবাদতের স্থানেও অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া বৈধ। এর সমর্থনে মহান আল্লাহর এ বাণীর সাধারণ নির্দেশনা প্রযোজ্য তারা নিজেদের প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অন্যদেরকে নিজেদের ওপর প্রাধান্য দেয়। (সূরা হাশর ৯)
(মিনহাতুল খালেক১/৬১৮/ আশরাফিয়া)
অপ্রাপ্তবয়স্ক একাধিক বুঝদার বালক হলে করণীয়।
একাধিক নাবালেগ বুঝদার ছেলে থাকে তাহলে পুরুষদের কাতারের পেছনে তাদের জন্য আলাদা একটি কাতার করা হবে। তবে যদি মাত্র একজন নাবালেগ ছেলে থাকে তাহলে সে পুরুষদের কাতারের এক পাশে দাড়াতে পারবে তাকে আলাদা করে পুরুষদের কাতারের বাইরে দাড় করানোর প্রয়োজন নেই।
ফাতওয়ায়ে দারুল উলুম দেওবন্দের বর্ণনা
سوال:(۱) کیا فرض نماز میں نابالغ لڑکے کو بڑوں کے ساتھ نہیں کھڑا ہونا چاہئے؟ (۲) اگر نابالغ لڑکا بڑوں کے ساتھ فرض نماز میں کھڑا ہوجائے تو اس کیا حکم ہے؟ (۳) کیا نابالغ لڑکے کو نماز کی حالت میں صف میں سے ہٹا سکتے ہیں؟ (۴) اکثر مسجد میں اس بات پر اختلاف رہتاہے کہ بچوں کو نہیں ہٹانا چاہئے ۔ براہ کرم، اس موضوع پر تفصیل سے بتائیں۔
جواب نمبر: 63025
بسم الله الرحمن الرحيم
- ) اگر نابالغ (سمجھ دار) لڑکے ایک سے زائد ہوں تو مردوں کے پیچھے ان کی مستقل صف بنائی جائے، اور اگر صرف ایک لڑکا ہو تو وہ مردوں کی صف میں کہیں کنارے کھڑا ہوجائے، اسے مردوں کی صف سے الگ کھڑے ہونے کی ضرورت نہیں۔ (۲) اگر نابالغ لڑکا صرف ایک ہو تو کچھ حرج نہیں، اور اگر ایک سے زائد ہوں تو مردوں کے پیچھے ان کی مستقل صف ہونی چاہیے، اور اگر وہ اس صورت میں مردوں کی صف میں کھڑے ہوں گے تو یہ صف بندی کے خلاف ہے اور نامناسب ہے، البتہ نماز سب کی ہوجائے گی۔ (۳) نابالغ بچہ اگر ایک ہو تو اسے ہٹانا نہ چاہیے، اور اگر ایک سے زائد ہوں تو ان کی صف مردوں کے پیچھے الگ ہونی چاہیے، باقی اگر وہ مردوں کی صف میں کھڑے ہوگئے تو انھیں نماز کی حالت میں ہٹانے کی ضرورت نہیں، بعد میں آنے والے بالغ حضرات کو چاہیے کہ وہ ان کے دائیں بائیں کھڑے ہوجائیں، اور بعض لوگ جو بہت چھوٹے اور ناسمجھ بچوں کو مسجد میں لے آتے ہیں، یہ صحیح نہیں، حدیث میں بہت چھوٹے بچوں کو مسجد سے دور رکھنے کا حکم دیا گیا ہے، نیز بہت زیادہ کم عمر بچے بعض مرتبہ لوگوں کی نماز میں خلل کا باعث ہوتے ہیں؛ اس لیے بہت چھوٹے بچوں کو مسجد نہ لانا چاہیے، ان کو گھر ہی میں دین کی اہم وموٹی موٹی باتیں بتائی جائیں اور جب وہ سمجھ دار اور آداب مسجد کی رعایت کے اہل ولائق ہوجائیں تو انھیں مسجد نماز کے لیے لایا جائے۔ (۴) اس میں اختلاف کی ضرورت نہیں، اوپر ذکر کردہ تفصیل کے مطابق عمل کیا جائے اور اگر کوئی شخص کسی سے کوئی صحیح بات کہے تو دوسرے کو وہ بات قبول کرنی چاہیے اگرچہ وہ اس کے بچے کے خلاف ہو یا خود اس کے خلاف ہو۔
প্রশ্ন:
১. ফরজ নামাজে কি নাবালেগ বালককে প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লিদের সঙ্গে একই কাতারে দাড়ানো উচিত নয়?
২. যদি কোনো নাবালেগ বালক ফরজ নামাজে প্রাপ্তবয়স্কদের কাতারে দাড়িয়ে যায় তবে এর শরয়ী বিধান কী?
৩. নামাজ চলাকালীন কাতার থেকে নাবালেগ বালককে সরিয়ে দেওয়া কি বৈধ?
৪. অনেক মসজিদে এ বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই মতবিরোধ দেখা যায়। কেউ বলেন শিশুদের কাতার থেকে সরানো উচিত নয়। এ বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিতে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করার অনুরোধ রইল।
উত্তর : ১. একাধিক নাবালেগ (বুঝদার) ছেলে থাকে তাহলে পুরুষদের কাতারের পেছনে তাদের জন্য আলাদা একটি কাতার করা হবে। আর যদি মাত্র একজন নাবালেগ ছেলে থাকে তাহলে সে পুরুষদের কাতারের এক পাশে দাঁড়াতে পারবে তাকে আলাদা করে পুরুষদের কাতারের বাইরে দাড়ানোর প্রয়োজন নেই।
(২) যদি নাবালেগ ছেলে একজন হয় তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যদি তারা একাধিক হয় তাহলে তাদের জন্য পুরুষদের পেছনে পৃথক কাতার হওয়াই সুন্নতসম্মত নিয়ম। যদি তারা এ অবস্থায় পুরুষদের কাতারেই দাড়িয়ে যায় তাহলে তা কাতারবিন্যাসের নিয়মের পরিপন্থী এবং অনুচিত। তবে এর কারণে কারও নামাজ নষ্ট হবে না সবার নামাজই সহীহ হবে।
(৩) যদি নাবালেগ ছেলে একজন হয় তাহলে তাকে তার স্থান থেকে সরিয়ে দেওয়া উচিত নয়। আর যদি তারা একাধিক হয় তাহলে তাদের কাতার পুরুষদের পেছনে আলাদা হওয়া উচিত। তবে তারা যদি ইতোমধ্যে পুরুষদের কাতারে দাঁড়িয়ে যায় তাহলে নামাজ চলাকালীন তাদের সরানোর দরকার নেই। পরে আগত প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লিরা তাদের ডানে বামে দাড়িয়ে কাতার পূর্ণ করবেন।
আর যারা খুব ছোট ও অবুঝ শিশুদের মসজিদে নিয়ে আসেন তা ঠিক নয়। হাদিসে এমন ছোট শিশুদের মসজিদ থেকে দূরে রাখার নির্দেশ এসেছে। এছাড়া অতি অল্পবয়সী শিশুরা অনেক সময় মুসল্লিদের নামাজে বিঘ্ন ঘটায়। তাই এ ধরনের ছোট শিশুদের মসজিদে না এনে ঘরেই তাদের দ্বীনের মৌলিক ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শেখানো উচিত। যখন তারা বুঝদার হবে এবং মসজিদের আদব-কায়দা রক্ষা করার যোগ্য হবে
তখন তাদের নামাজের জন্য মসজিদে নিয়ে আসা উচিত।
(৪) এ বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক বা ঝগড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। উপরোক্ত ব্যাখ্যা অনুযায়ী আমল করা উচিত। আর কেউ যদি শরিয়তের দৃষ্টিতে সঠিক কোনো কথা বলে তাহলে তা নিজের সন্তান বা নিজের মতের বিরুদ্ধে হলেও উদারভাবে গ্রহণ করা উচিত। (ফাতওয়া নাম্বার 63025)
দারুল উলুম দেওবন্দের অপর একটি ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে
سوال نمبر: 167715
عنوان:کیا بچوں کو مردوں کی صف میں کھڑا کرنا مکروہ ہے؟
سوال:کیا بچوں کو بیچ صف میں کھڑے کرنا مکروہ ہے ؟
بسم الله الرحمن الرحيم
نابالغ اور سمجھ دار بچہ اگر ایک ہو تو وہ مردوں کی صف میں کھڑا ہوسکتا ہے۔ اور اگر ایک سے زائد ہوں تومردوں کے پیچھے ان کی مستقل صف بنائی جائے۔ ایک سے زائد بچوں کو مردوں کے پیچھے الگ صف میں کھڑا کرنے بجائے انھیں مردوں کی صف میں کھڑا کرنا خلاف سنت ہے؛ البتہ نماز ہوجائے گی۔
ویصف الرجال ثم الصبیان الخ (تنویر الأبصار مع الدر والرد، کتاب الصلاة، باب الإمامة، ۲: ۳۰۹- ۳۱۴، ط: مکتبة زکریا دیوبند)،(ویصف) أي: یصفھم الإمام بأن یأمرھم بذلک،… ( ثم الصبیان) ظاھرہ تعددھم، فلو واحداً دخل الصف (الدر المختار)۔
প্রশ্ন: শিশুদেরকে পুরুষদের কাতারের মধ্যে দাড় করানো কি মাকরূহ?
উত্তর:যদি কোনো নাবালিগ কিন্তু বুঝ সম্পন্ন (তামীযদার) শিশু একজন হয় তাহলে সে পুরুষদের কাতারেই দাড়াতে পারবে।আর যদি এমন শিশু একাধিক হয় তাহলে সুন্নত হলো তাদেরকে পুরুষদের কাতারের পেছনে আলাদা একটি কাতারে দাড় করানো। একাধিক শিশুকে পুরুষদের পেছনে পৃথক কাতারে দাড় করানোর পরিবর্তে পুরুষদের কাতারের মধ্যেই দাড় করানো সুন্নতের পরিপন্থী (খিলাফে সুন্নত)। তবে এর কারণে নামাজ নষ্ট হবে না নামাজ সহীহ আদায় হয়ে যাবে।
ফিকহি উদ্ধৃতির ভাবার্থ : ইমাম প্রথমে পুরুষদের কাতার বিন্যস্ত করবেন এরপর শিশুদের কাতার সাজাবেন। এখানে শিশুদের বলতে একাধিক শিশুকে বোঝানো হয়েছে। তবে যদি শিশু একজনই হয় তাহলে সে পুরুষদের কাতারের সঙ্গেই দাড়াবে।(ফাতওয়া নাম্বার 167715)
বর্তমান সময়ে অধিক যুক্তিযুক্ত কথা।
বর্তমান সময়ের বাস্তবতাকে সামনে রেখে একথা বলাই অধিক যুক্তিযুক্ত যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদেরকে কাতারের মধ্যখানে দাড় করানো কেবল শরীয়তসম্মতই নয় বরং অনেক ক্ষেত্রে এটিই অধিক হিকমতপূর্ণ ও কল্যাণকর পদ্ধতি। কারণ একাধিক বালককে পৃথক কাতারে একত্রে দাড় করালে তাদের মধ্যে দুষ্টুমি ও চঞ্চলতার আশঙ্কা বেড়ে যায় যা তাদের নিজেদের নামাজের একাগ্রতা নষ্ট করার পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লিদের নামাজেও বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে। তাই শৃঙ্খলা একাগ্রতা এবং মসজিদের শান্ত পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে নাবালেগ বালকদেরকে প্রাপ্তবয়স্কদের কাতারের মধ্যে ছড়িয়ে দাড় করানোই অধিক যুক্তিসঙ্গত ও শরীয়তের হিকমতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যা নিম্নে বর্ণিত আল্লামা রাফিয়ী রহ. এর উদ্ধৃতি এবং রাহমতী রহ. এর বিশ্লেষণ থেকে প্রতীয়মান হয়
قال الرافعي : قوله : ذكره في البحر بحثاً قال الرحمتي ربما يتعين في زماننا إدخال الصبيان في صفوف الرجال؛ لأن المعهود منهم إذا اجتمع صبيان فأكثر تبطل صلاة بعضهم ببعض، وربما تعدى ضررهم إلى إفساد صلاة الرجال
আল্লামা রাফিয়ী রহ বলেন এ ব্যাপারে আল-বাহরুর রায়িক গ্রন্থে গবেষণামূলক অভিমত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর রাহমতী রহ. বলেন সম্ভবত আমাদের যুগে নাবালেগ বালকদেরকে পুরুষদের কাতারের মধ্যেই দাড় করানো অধিক উপযুক্ত। কারণ সাধারণত একাধিক বালক একত্রে দাড়ালে তারা নিজেদের মধ্যে দুষ্টুমি ও চঞ্চলতায় লিপ্ত হয়। ফলে তাদের নিজেদের নামাজেই বিঘ্ন ঘটে এমনকি অনেক সময় তাদের এই আচরণের প্রভাব প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লিদের ওপরও পড়ে এবং তাদের নামাজে একাগ্রতাও নষ্ট হয়ে যায়।( আদ্দুরুল মুখতার ২/৩৭৭/রিসালা)
উপসংহার : উপরোক্ত আলোচনা হাদিসের নির্দেশনা হানাফি ফকীহদের ব্যাখ্যা এবং দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া সমূহ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে
১.একজন বুঝদার নাবালেগ বালককে পুরুষদের কাতারে দাড় করানোই সুন্নাহ সম্মত তাকে কেবল নাবালেগ হওয়ার কারণে কাতার থেকে সরিয়ে দেওয়া বা একাকী দাড় করানো শরিয়তসম্মত নয়।
২. আর একাধিক বুঝদার বালক হলে মূল সুন্নত হলো তাদের জন্য পুরুষদের পেছনে পৃথক কাতার করা। তবে তারা যদি পুরুষদের কাতারেই দাড়িয়ে যায় তাহলে তা খিলাফে সুন্নত হলেও কোন অবস্থাতেই তাদের বা অন্যদের নামাজ নষ্ট হবে না নামাজ সহীহই হবে। এ কারণে নামাজরত অবস্থায় তাদেরকে টেনে হিচড়ে কাতার থেকে সরিয়ে দেওয়াও উচিত নয়।
৩.একই সঙ্গে আল্লামা রাহমতী (রহ.)-এর যুগোপযোগী বিশ্লেষণও বিশেষভাবে লক্ষণীয়। তিনি বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে বলেছেন বর্তমান যুগে অনেক সময় একাধিক বালককে আলাদা কাতারে একত্রে দাড় করানোর চেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক মুসল্লিদের কাতারের মধ্যে ছড়িয়ে দাড় করানোই অধিক উপযুক্ত ও যুক্তিসঙ্গত যাতে তারা পরস্পরের সঙ্গে দুষ্টুমি করে নিজেদের ও অন্যদের নামাজে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে।
(আর ছোট্ট শিশুদেরকে মসজিদে নিয়ে না আসাই উচিত একান্ত যদি কেউ কোন অবুঝ শিশুকে মসজিদে নিয়ে আসে তাহলে তার পাশে দাড় করিয়ে বাচ্চাকে নিয়ন্ত্রণ করাই একান্ত কাম্য)
সুতরাং এ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিতর্ক কঠোরতা বা শিশুদের প্রতি রূঢ় আচরণ করা উচিত নয়। বরং সুন্নাহর মূলনীতি ফকীহদের ব্যাখ্যা এবং সময়ের বাস্তবতা এই তিনটিকে সামনে রেখে প্রজ্ঞা কোমলতা ও শৃঙ্খলার সঙ্গে আমল করাই ইসলামের শিক্ষা এবং বর্তমান সময়ে সর্বাধিক কল্যাণকর ও ভারসাম্যপূর্ণ পন্থা।
উত্তর প্রদানে
মুফতি মুঈনুল ইসলাম সিলেটি
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল
মুফতি ,সম্মিলিত ফতোয়া বিভাগ ,মাহাদুল ফিকহিল ইসলামী বাংলাদেশ
মুশরিফ,( ইফতা বিভাগ) মারকাযুদ দাওয়াহ ওয়াল ইরশাদ, দক্ষিণখান, ঢাকা