মুহতারাম মুফতি সাহেব, আমার বউ লম্বা সময় ধরে জিন ও যাদুতে আক্রান্ত একজন রোগী। তাকে বিবাহের পর থেকে শুরু করে সবসময় আমি বিচ্ছেদের যাদুর কষ্ট অনুভব করছি।আমি রুকিয়া করিয়েছি বহুবার। রুকিয়ার কথা শুনলে জগরা করতো যেতে চাইতো না রোগির জামাকাপর চিরে ফেলতো ইত্যাদি । তার সমস্যা এতটা মারাত্মক ছিলো যা বলে বুজানো কঠিন। রোগুর খামছি, কামর, থাপর , লাথি এ সকল কিছু আমার সইতে হইছে । মানি তার মস্তিস্ক কন্টোল করে শয়তান সব ধরনের অপরাধ করাতো, যা বিচ্ছেদের যাদুর অংশ। আমাকে বলা হতো যে তালাক দাও, বারবার বলা হতো। আমি উত্তরে বলতাম দিবো তালাক কিন্তু একটা কথা বলতে হবে বলোতো আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম। এটা বললে তখন আর বলতো না, তখন বলতো আগে দাও পরে বলবো।আমিতো জানি শয়তান কখনো আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম বলতে পারবে না। তাহলে তো শয়তানি করতে পারবে না  তখন আমাকে বলা হতো আমি অনেক চালাক।তবে যতো চালাকি করি সংসার করতে দিবে না।তার মোবাইলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ছিল ওই শয়তানের হাতে। তাকে সব সময় পরকীয়া আসক্ত করে রাখতো।নামাজ পড়তে দিতো না কোরআন পড়তে দিতো না ( দুপাটি দাত এক সাথে শক্তভাগে লাগাই রাখতো কোরআন পড়তে গেলে, রুকিয়ার আয়াত শুনলে একই লাজ করতো)  ভালো কাজ করতে বাধা সৃষ্টি করতো।আর সব সময় একটা কথাই বলা হতো  তালাক দে তালাক দে। তুই এখনো ছাড়িস না কেন রোগীকে তোকে এত মারি এখনো তালাক বলস না কেন। এর আগে দুইটা সংসার নষ্ট করছি তোর সংসার করে করতে দেব না। তোর অর্থনীতি ধ্বংস করে তারপর ওকে নিয়ে চলে যাবো।তোর সাথে চ্যালেঞ্জ করলাম ওকে তো সংসার করতে দেবো না দেব না দেব না। আমি এই রোগীকে এক বছরের ভিতরে মনে হাতে গোনা কয়েকদিন সুস্থ অবস্থায় পেয়েছি সুন্দরভাবে এছাড়া বাদবাকি সময় অসুস্থ অবস্থায় পেয়েছি। সর্বশেষ যে বিষয়টা হয়েছে সেটা ছিল ঠিক এরকম। আমার উপরেও কিছুটা জাদুর প্রভাব চলে আসছিল আমি রুকিয়া করতে গেলে আমার ও ইফেক্ট শুরু হয়ে যায়। পরে শুনি বিচ্ছেদের যাদু নাকি স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই করা হয় বেশিরভাগে। ঠিক রুকিয়ার কয়েকদিন আগে আমি আমার স্ত্রীকে জগরার কারনে ১ তালাক দেই। তার কয়েকদিন পরে খুব গ্যাঞ্জাম লেগে যায় এক মজলিসে। একপর্যায়ে আমি বলি তোকে এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক আবারো বলি এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক এভাবে বারবার বলি। ঠিক ওই সময়ে রোগীর কন্ট্রোল যখন ওই শয়তান ছেড়ে দেয় তখন ও আমার মুখ চেপে ধরে বলে এগুলি বইলো না তোমার পায়ে ধরি তোমার পায়ে ধরি আমার পা ধরে জড়াই। আমি তারপরও বলি এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক।এভাবে একাধিক বার বলি। এবং ওই সময় কাজি ডেকে আনি।কাজে এসে বলে আপনি কি সংসার করবেন না করবেন না। আমি বলি করব না। মেয়েটির কোন গার্ডিয়ান নেই। তাই কোর্টের মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদের একটা আবেদন পাঠানো হয়। তার মোহরানা যদিও আগে পরিশোধ করা, তারপরও সামাজিকভাবে তাকে আবার মোহরানা দেওয়া হয়। সর্বশেষ মেয়েটি যখন বাসা থেকে বের হয় তখন ওই শয়তানটা তার ব্রেনে ছিল শরীরে ছিল মস্তিষ্কে ছিলো।এটা আমি বুঝতে পারি। কারণ দীর্ঘদিন সে আমার সাথে ছিলো। শয়তানটা আমাকে বারবার বলতো তোর কাছ থেকে যখন বের করে নিয়ে যাবো, তারপর তোর স্মৃতি ওর মেমোরি থেকে মুছে ফেলে দেবো চিরতরে, ও আর কখনোই তোকে স্মরণ করবে না। অথচ মেয়েটা অসুস্থ। শয়তানটা এর আগে বহুবার ওকে গার্মেন্টসের বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করাইছে বিভিন্ন জায়গায় অপরাধ করাইছে বিভিন্ন জায়গায় পরকীয়া করা হয়েছে বিভিন্ন জায়গায় জেনা করাইছে। যেহেতু মেয়েটার মা-বাবা কেউ নেই এতিম সেহেতু তার এই সমস্যাটা কেউ বুঝতে পারে না এবং চিকিৎসা করে না আমি বুঝতে পারছি বাট এত মোস্তা ছিল যেটা আমার পক্ষে মেন্টেন করাটা একটু কষ্টসাধ্য ছিলো।এখন সর্বশেষ প্রশ্ন হচ্ছে আমার এটা, তালাক তাহলে মোট কয়টা হইলো। ১ম একদিন এক তালাক দিলাম, তার কয়েকদিন পর ঝগড়া হলো তখন বারবার এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক এভাবে বললাম এবং বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদনও করলাম। তাহলে তালাক মোট কয়টা হইলো। আদৌ সংসার করতে পারব কিনা। বিস্তারিত জানাবেন ইনশাআল্লাহ। তাকে ফিরে পাবার সুযোগ আছে কি। আর তালাক মোট কয়টা হলো।


       নিবেদক,

                                                                                      ফাহাদ হোসেন-গাজীপুর



 

    الجواب باسم ملهم الصِّدق و الصّواب


ইসলামী বিধান মতে তালাক একটি নিকৃষ্ট গর্হিত বৈধ কাজ। একান্ত প্রয়োজন ব্যতীত শরীয়ত তালাক দিতে নিরোৎসাহিত করে। তথাপিও যদি কোন ব্যক্তি কারণে-অকারণে ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় লিখিত বা মৌখিকভাবে একসাথে বা পৃথকভাবে তালাক প্রদান করে সংখ্যানুপাতে তালাক পতিত হয়ে যায়।



সুতরাং আপনার বর্ণনা অনুযায়ী আপনার জিন ও যাদুতে আক্রান্ত স্ত্রীকে এক তালাক দিয়েছেন যার কারণে এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। পরবর্তীতে আবার তোকে এক তালাক দুই তালাক তিন তালাক বলার দ্বারা পূর্বের এক তালাক পরবর্তী দ্বিতীয় ও তৃতীয় তালাকে মুগাল্লাজা পতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। উক্ত তালাকের পর থেকে আপনাদের জন্য সংসার করা বৈধ নয়। তবে ইদ্দত পালন পরবর্তী স্বাভাবিকভাবে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে এবং উক্ত স্বামী মারা গেলে বা তালাক দিলে ইদ্দত পালন পরবর্তী সেই স্বামীর সাথে নতুনভাবে বিবাহে আবদ্ধ হয়ে এক সাথে সংসার করা বৈধ আছে। অন্যথায় তিন তালাক পরবর্তী সংসার করা হারাম এবং শারীরিক সম্পর্ক যিনা হিসাবে গণ্য হবে।



লক্ষণীয়: তিন তালাক পরবর্তী আপনাদের একত্রে থাকা সময়ের জন্য তওবা করতে হবে। আর দু‘জন একত্রে ঘর-সংসার করতে চাইলে উপরোক্ত বর্ণিত পন্থা অবলম্বন করুন। 


 الادلة الشرعية

سورة البقرة (٢٣٠)

              فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره

 

(صحيح البخارى-2/792، 2/803)

           وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك


السنن الكبرى للبيهقي (١٤٤٩٢)

             قال حسن : لولا اني سمعت ابي يحدث عن جدي النبي صلى الله عليه وسلم : من طلق امراته ثلاثا لم تحل له  حتى تنكح زوجا غيره لراجعتها


المصنف لابن ابى شيبة(١٨٠٨٧)

            عن واقع بن سحبان قال سئل عمران بن حصين رضي الله عنه عن رجل طلق امراته  ثلاثا في مجلس قال اثم بربه وحرمت عليه امراته


مجموعة الفتاوى لابن تيميه (٨/٣٣

            فان ثلاثا في طهر واحد بكلمة واحدة مثل ان يقول انت طالق ثلاثا فهذا للعلماء من السلف والخلف فيه ثلاثةاقوال:

الثاني : انه طلاق محرم لازم وهو قول مالك وابي حنيفة واحمد في الرواية المتاخرة عنه واختارها اكثر اصحابه وهذا القول منقول عن كثير من السلف من الصحابة والتابعين


الهداية (٢/١٣٢)

           وان كان الطلاق ثلاثا في الحرة او ثنتين في الامة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها او يموت عنها


المصنف لابن ابى شيبة(١٨٠٨٧)

            عن واقع بن سحبان قال سئل عمران بن حصين رضي الله عنه عن رجل طلق امراته  ثلاثا في مجلس  قال اثم بربه  و حرمت عليه امراته

 

(موطا مالك، رقم-2022)

            عن مالك أنه بلغه أن رجلا جاء إلى عبد الله بن مسعود فقال إني طلقت امرأتي ثماني تطليقات فقال ابن مسعود فماذا قيل لك قال قيل لي إنها قد بانت مني فقال ابن مسعود صدقوا


(سنن الدار قطنى، كتاب الطلاق، دار الكتب العلمية-4\21، رقم-3932)

           عن عائشة رضى الله عنها قاتل: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: اذا طلق الرجل امرأته ثلاثا لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره، ويذوق كل واحد منهما عسليلة صاحبه  

(الفتاوى الهندية-1\478،)

           وإن كان الطلاق ثلاثا فى الحرة، وثنتين فى الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها، ثم يطلقها، أو يموت عنها



و الله اعلم بالصواب

كتبه                 

المجلس المشترك للإفتاء   

بمعهد الفقه الاسلامي داكا. بنغلاديش