মুহতারাম! জনাব আমিনুল ইসলাম তাবলিগের একজন দায়িত্বশীল। কিন্তু সাধারণ শিক্ষিত হওয়া সত্ত্বেও দ্বীন মানার ক্ষেত্রে খুব অগ্রগামী। তিনি ১৪ জন সাথী নিয়ে চিল্লায় গেলেন। একবার জামাতের মেহমানদারির ব্যবস্থা হয়। দুপুরে যখন মেজবান খাবার নিয়ে উপস্থিত, তখন তিনি মোরগের গোশতের তরকারি প্রত্যক্ষ করলেন। তিনি মেজবানকে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কে কেটেছে? মেজবান বলল, মোরগের দোকান থেকে ড্রেসিং করে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিয়ে এসেছি। একথা শুনে দায়িত্বশীল বললেন, গরম পানি দিয়ে ড্রেসিং করলে মুরগি নাপাক হয়ে যায় এবং তা খাওয়া হারাম হয়ে যায়।
জানার বিষয় হলো, আমিনুল ইসলামের কথা কতটুকু শরীয়তসম্মত? শরীয়তসম্মত ড্রেসিংয়ের পদ্ধতি থাকলে বর্ণনা করলে উপকার হতো।
নিবেদক: মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম
الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ
ড্রেসিংয়ের নিয়ম হলো, প্রাণীর পাকস্থলী ও নাড়িভুঁড়িসহ সমস্ত নাপাকি বের করে পবিত্র স্বাভাবিক গরম পানিতে চুবিয়ে ড্রেসিং করবে। এতে উক্ত গোশত খেতে কোনো সমস্যা নেই। অন্যথায় পেটের নাপাকি বের না করে ফুটন্ত পানিতে ড্রেসিং করলে ভেতরের নাপাকি গরমে মজে গোশতের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শরীয়তে এ প্রক্রিয়ায় ড্রেসিংকৃত প্রাণী খাওয়া হারাম।
সুতরাং প্রশ্নোক্ত সুরতে ড্রেসিংকৃত মুরগির গোশত হারাম বা হালাল হওয়ার বিধান ড্রেসিংয়ের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে। ঢালাওভাবে ড্রেসিংকৃত মুরগি হারাম বলে দেওয়ার সুযোগ নেই।
রদ্দুল মুহতার: ১/৫৯৮, আজহার। ফাতহুল কাদীর: ১/২১১, রশিদিয়া। ফাতাওয়ায়ে লখনবী: ১২০, রশিদিয়া।
মুফতি
মুয়াজ বিন ইয়াহইয়া
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ, শেখ
জানূরুদ্দীন র. (চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসা) ঢাকা-১২১৯
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল
ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি, ফাতাওয়া ও মাসায়েল