মুহতারাম! গোলাম আহমদ কাদিয়ানীর অনুসারীরা বলে থাকেন, গোলাম আহমদ কখনো নিজেকে শরিয়তধারী নবী দাবি করেননি; বরং সে সর্বদা নিজেকে যিল্লী বা ছায়া নবী দাবি করেন। আর এর দ্বারা আল্লাহর রাসূলের নবুওয়াতের অস্বীকার হয় না এবং অংশীদারও বুঝায় না। যেমন ঈসা আলাইহিস সালাম নবী হিসেবে দুনিয়াতে আসবেন এবং আল্লাহর রাসূলের শরিয়তের অনুসরণ করবেন। জানার বিষয় হলো, শরিয়তের আলোকে এরূপ আকীদা রাখার হুকুম কী? দলিলসহ জানাবেন।

নিবেদক: মোঃ শাহাদাত হোসাইন

الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ

ইসলামি আকীদা মতে, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বশেষ নবী এবং তারপর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো প্রকারের কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। ফলে তৎপরবর্তী ভিন্ন অন্য কাউকে নবীরূপে বিশ্বাস স্থাপন করা স্পষ্ট কুফরি। আর শেষ জামানায় ঈসা আলাইহিস সালামের আগমন স্বতন্ত্র নবী হিসেবে নয়, বরং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মত হিসেবে হবে।

সুতরাং গোলাম আহমদ কাদিয়ানী বা অন্য কারো জন্য যিল্লী বা ছায়া নবী বলে দাবি করা স্পষ্ট কুফরি। এমন ব্যক্তি ঈমানচ্যুত হয়ে কাফের হয়ে যাবে। কেননা নবীজির পরে কাউকে যিল্লী বা ছায়া নবী দাবি করাটাও খতমে নবুওয়াত অস্বীকারের নামান্তর।

এক্ষেত্রে তাকে ঈসা আলাইহিস সালামের আগমনের ওপর অনুমান করা সম্পূর্ণ অবান্তর ও অযৌক্তিক।

দলিলসমূহ: সূরা আহযাব—৪০ নং আয়াত; তিরমিজি—৩২৭২ নং হাদিস; আকীদাতুত তহাবি—৯৯ পৃষ্ঠা, দারুল আকীদা; মামুদিয়া—২/১১৭, ফারুকিয়া।

 

মুফতি মুয়াজ বিন ইয়াহইয়া

ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল ফিকহ ,শেখ জানূরুদ্দীন র. (চৌধুরীপাড়া মাদ্রাসা ) ঢাকা-১২১৯

মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা

মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল