মুহতারাম! আমাদের বরিশালে ছারছিনা মাদ্রাসা আছে। যেখানে মিলাদ-কিয়ামের প্রচলন রয়েছে। তারা মিলাদের সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত হন—এই মনে করে কেয়াম করেন। কিন্তু তাদের পূর্বসূরীদের মাঝে অনেক আল্লাহর ওলিও ছিলেন, যেমন কায়েদ সাহেব হুজুর রহমতুল্লাহি, মুফতি আমিমুল ইহসান ইত্যাদি বুজুর্গগণও আমার জানামতে মিলাদ-কিয়াম করতেন। জানার বিষয় হলো, যারা মিলাদ-কিয়াম করেন তারা কি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত? যদি না হয়, তাহলে এ সমস্ত বুজুর্গদের ক্ষেত্রে কী হুকুম বা তাদের ক্ষেত্রে কী বলা হবে?
নিবেদক—জুবায়ের সাঈদ
الْجَوَابُ بِاسْمِ مُلْهِمِ الصِّدْقِ وَالصَّوَابِ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নাম উচ্চারণের মাধ্যমে তিনি সেই মজলিসে উপস্থিত হন—এরূপ আকীদা-বিশ্বাস নিতান্তই অযৌক্তিক এবং ভ্রষ্টতাপূর্ণ বিশ্বাস। ব্যাখ্যাসাপেক্ষে তা কুফরিরও কারণ হতে পারে। ফলে যারা এরূপ বিশ্বাস রেখে মিলাদ-কিয়াম করে, তারা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
তবে কেউ যদি এরূপ ভ্রষ্টতাপূর্ণ বিশ্বাস রাখা ব্যতীত শরিয়তবিরোধী সকল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থেকে শুধু আল্লাহর রাসূলের নাম উচ্চারণের আদব রক্ষার্থে কিংবা এরূপ সাধারণ কোনো যুক্তিতে মিলাদ-কিয়াম করে, তবে তা ভ্রষ্টতা নয় বটে, তবে তা অযৌক্তিক এবং সুন্নাহ সমর্থিত না হওয়ার কারণে পরিত্যাগযোগ্য। এ শ্রেণির লোকদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত-বহির্ভূত বলা যায় না। আলোচ্য নীতি অনুসারে যারাই এরূপ আকীদা-আমল ধারণ করবে, অবস্থাভেদে তাদের ওপর উক্ত বিধান আরোপিত হবে। সুনির্দিষ্টভাবে কারো বিরুদ্ধে কোনো হুকুম আরোপিত করা সাধারণত ফতোয়ার নীতি-বিরোধী।
সূত্র: ইমদাদুল ফতোয়া—৬/৩১৬, দারুল উলুম করাচি; কিফায়াতুল মুফতি—১/১৬৯, দারুল ইশাআত; বাইরুল ফতোয়া—১/৫৮৭, জাকারিয়া।
মুফতি মুয়াজ বিন ইয়াহইয়া
ফাযেল ও মুতাখাস্সিস ফিল
ফিকহ , শেখ জানূরুদ্দীন র. দারুল
কুরআন মাদরাসা, (চৌধুরীপাড়া
মাদ্রাসা ) ঢাকা-১২১৯
মুফতি, মাহা'দুল ফিকহিল ইসলামি উত্তরা ঢাকা
মুফতি,ফাতাওয়া ও মাসায়েল